শেরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় মো. সোহাগ মিয়া (২৯) নামের এক পুলিশ কনস্টেবলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে সোহাগ মিয়া আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে শেরপুর সদর আমলি আদালতের বিচারক ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান মাহমুদ মিলন তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ কনস্টেবল সোহাগ মিয়াকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোহাগ মিয়া বর্তমানে বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইনসে কর্মরত রয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর শেরপুর সদর উপজেলার সূর্য্যদী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হাসেনের ছেলে সোহাগ মিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বয়ড়া পরাণপুর গ্রামের মো. আজাদ মিয়ার মেয়ে মোছা. লাকী আক্তারের বিয়ে হয়। তাঁদের দাম্পত্যজীবনে দুটি সন্তান রয়েছে।
মামলার অভিযোগে লাকী আক্তার উল্লেখ করেন, বিয়ের সময় যৌতুক দেওয়ার পরও তাঁর স্বামী আরও যৌতুকের দাবিতে তাঁকে নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে চলতি বছরের ২৪ জুন পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এরপর ২৯ জুন স্বামী সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে শেরপুরের আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় মামলা করেন লাকী আক্তার।
মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার সোহাগ মিয়া আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, যৌতুক মামলায় পুলিশ কনস্টেবল সোহাগ মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন