Admin
৬ জুলাই ২০২৫, ৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

অভ্যুত্থানে স্বামী হারিয়েছেন এখন সন্তান নিয়ে উদ্বিগ্ন

‘আমার স্বামী যখন ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন, তখন আমি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বর্তমানে ছয় মাসের মেয়েই আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। বাবার নামের সঙ্গে মিল রেখে মেয়ের নাম রাখা হয়েছে সাবরিনা বিনতে সিদ্দিক। আমার স্বামী দেশের মানুষের বৈষম্য দূর করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন, আমি ও আমার সন্তান যেন বৈষম্যের শিকার না হই।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে সমকালকে কথাগুলো বলছিলেন সাদিয়া খাতুন।
গত বছরের ২০ জুলাই ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন নূরে আলম সিদ্দিক। এ ঘটনার মাত্র ছয় মাস আগে ১২ জানুয়ারি তাদের বিয়ে হয়। নিজ বাড়ি গৌরীপুর উপজেলায় হলেও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কোনাপাড়া মাদ্রাসায় চাকরি করতেন সিদ্দিক। এই এলাকায় চাকরির সুবাদে বিয়ে করেন সাদিয়া খাতুনকে। স্বামীর স্মৃতি কোনোভাবেই ভুলতে পারছেন না তিনি।
সাদিয়া বলেন, সারাদেশে আন্দোলন যখন শুরু হচ্ছে, তার প্রথম দিন থেকেই সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল নূরে আলম সিদ্দিকীর। ১৮ ও ১৯ জুলাই আন্দোলনে যাওয়ার পর ভয় ঢুকে যায় মনে। এর ঠিক পরদিন গৌরীপুরের কলতাপাড়ায় আন্দোলনে অংশ নিলে পুলিশ সদস্যরা কাছ থেকে গুলি করে মেরে ফেলে তাঁকে। ওইদিন তাঁর সঙ্গে আরও দু’জন শহীদ হন।
স্বামী নিহত হওয়ার পর শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে চলে আসেন সাদিয়া। বাবার আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। বাবা ও ভাই কোনো রকম উপার্জন করে চালিয়ে নিচ্ছেন। তাদের খোঁজখবর নেন না শ্বশুর-শাশুড়ি। সরকারি যা সহযোগিতা করা হয়েছে, তার অধিকাংশ টাকা তারা নিয়ে গেছেন বলে দাবি সাদিয়ার। তিনি বলেন, ‘সন্তান জন্মদানের জন্য আমি যখন হাসপাতালে ভর্তি, তখন জুলাই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা দেয় সরকার। আমি ভেবেছিলাম আমার শ্বশুরের কাছে সরকার সরাসরি টাকা দিলেও আমার সন্তানের জন্য কিছু টাকা দেবেন। পরে তারা আমাকে কিছুই দেননি।’
জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকেও আন্দোলনে নিহতদের অনেক আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১ টাকাও পাননি বলে জানান সাদিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। আজ যদি আমার স্বামী থাকত, তাহলে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ত না।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা এসব কথা শুনতে পেয়ে সাদিয়া খাতুনের পাশে দাঁড়ান। সর্বশেষ জেলা পরিষদ থেকে অনুদানের ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে। সাদিয়ার দাবি, শহীদ পরিবারকে সঞ্চয়পত্রের ১০ লাখ টাকা যেন প্রকৃত ওয়ারিশ শনাক্ত করে বণ্টন করে দেওয়া হয়। এই টাকা যদি তাঁর সন্তান না পায়, তবে তাঁকে ভরণপোষণ করা কঠিন হয়ে যাবে।
সাদিয়ার ভাই মাহমুদুল হাসান শামীম বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন। নিজের সংসারের খরচ জোগানোর আগে স্বামীহারা বোনের কথা চিন্তা করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সরকার যেন প্রতিটি শহীদের পরিবারের দায়িত্ব নেয়। প্রশাসনের প্রতি তাঁর আহ্বান, ‘যাদের কারণে আপনারা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছেন, তাদের যেন স্মরণে রাখেন।’
বিচার দেখে যেতে চান শহীদ বিপ্লবের বাবা
গৌরীপুরের কলতাপাড়া বাজারের বাসিন্দা বাবুল মিয়া। ২০ জুলাই বাড়ির পাশে আন্দোলনে গিয়ে গুলিতে মারা যান তাঁর ছেলে বিপ্লব হাসান। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে আছেন তিনি। ছেলে হত্যার বিচার দেখে যাওয়াই তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছা। উপজেলা সদরে ছোট একটি চাকরি করতেন বিপ্লব হাসান। ঘটনার দিন সকালে নাশতা খাওয়ার জন্য মায়ের কাছ থেকে ৫০ টাকা নিয়ে ঘর থেকে বের হন তিনি। এরপর ফেরেন লাশ হয়ে। পরে বাবুল মিয়া ছেলে হত্যার ঘটনায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সদস্য সচিব মোহাম্মদ আল নূর আয়াশ জানান, জুলাই আন্দোলনে ময়মনসিংহ জেলার ৪১ জন বাসিন্দা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শহীদ হয়েছেন। সরকার এখন পর্যন্ত তাদের আশানুরূপ আর্থিক সহযোগিতা করতে পারেনি। শহীদ পরিবারের প্রতিটি সদস্য যাতে সচ্ছলভাবে চলতে পারেন, সে ব্যাপারে কাজ করছেন তারা।

Facebook Comments Box
১ম লাইন রঙ
২য় লাইন রঙ
ফন্ট সাইজ (65px)

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান হবে, প্রধানমন্ত্রী হবেন প্রধান বক্তা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নয়, সমর্থন থাকবে: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের গোপন পদ্ধতি ফাঁস নতুন প্রামাণ্যচিত্রে

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, ফলাফল শিগগির: চিফ হুইপ

চার মাসে কুরআনের হাফেজ ৮ বছরের সাজিদ

ফুল দিয়ে সাজানো ঘোড়ারগাড়িতে শিক্ষিকার রাজকীয় বিদায়

পূর্বধলায় গ্রাম পুলিশদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও পুরস্কার প্রদান

ময়মনসিংহে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া

নেত্রকোণা রিফিল ছাড়াই ফায়ার এক্সটিংগুইশারে নকল স্টিকার, কর্মকর্তা বদলি

১০

নেত্রকোণা জেলের জালে উঠে এল শিশুর মরদেহ

১১

নালিতাবাড়ীতে ৮২ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

১২

বাকৃবির তিন ভবনে কর্মকর্তাদের তালা, উপাচার্যের আশ্বাসে অবমুক্ত

১৩

ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে, অতঃপর…

১৪

বায়তুল মোকাররমে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা

১৫

ময়মনসিংহে শিক্ষকের বাসা থেকে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি জব্দ

১৬

শেরপুরে মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ খামারিদের

১৭

নান্দাইলে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু, ফিঙ্গারপ্রিন্টে পরিচয় শনাক্ত

১৮

শিকড়ের সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে ব্রহ্মপুত্রের তীরে ‘ভাব তরঙ্গ’

১৯

জেলের জালে উঠে এল শিশুর মরদেহ

২০
শিরোনামঃ
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান হবে, প্রধানমন্ত্রী হবেন প্রধান বক্তাস্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নয়, সমর্থন থাকবে: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীগাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের গোপন পদ্ধতি ফাঁস নতুন প্রামাণ্যচিত্রেভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, ফলাফল শিগগির: চিফ হুইপচার মাসে কুরআনের হাফেজ ৮ বছরের সাজিদফুল দিয়ে সাজানো ঘোড়ারগাড়িতে শিক্ষিকার রাজকীয় বিদায়পূর্বধলায় গ্রাম পুলিশদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও পুরস্কার প্রদানময়মনসিংহে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারকিশোরগঞ্জে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়ানেত্রকোণা রিফিল ছাড়াই ফায়ার এক্সটিংগুইশারে নকল স্টিকার, কর্মকর্তা বদলি