
স্থানীয় প্রতিনিধি : কোদাল, শাবল, বেলচা, বালতি ও ক্লিনিং ব্রাশ হাতে যে তরুণদের দেখা যাচ্ছে তাঁরা কেউ শ্রমিক কিংবা দিনমজুর নয়, তাঁরা গৌরীপুর ছাত্রদলের বিভিন্নস্তরের নেতা-কর্মী।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর শালিহর গ্রামের বধ্যভূমিতে অবস্থিত দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ও নোংরা স্মৃতিসৌধ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছে তাঁরা। বুধবার দুপুরে ছাত্রদলের এমন ভিন্নধর্মী একটি আয়োজন দেখে ছুটে আসেন উৎসুক গ্রামবাসী, থমকে দাঁড়ায় পথচারীরা। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছে, কেউ পুকুর থেকে বালতি ভরে পানি আনছে, কেউ ব্রাশ দিয়ে ময়লা ঘষছে। স্মৃতিসৌধের বেদী থেকে সীমানা প্রাচীরের বাহির পর্যন্ত ঝকঝকে চকচকে করে ফেলেছে তাঁরা কয়েক ঘন্টার মধ্যে।
আর এ আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আবিদ হাসান রাহাত। সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন- উপজেলা ছাত্রদল নেতা মোকছেদুল মোমেন, ফারুক হাসান, মোস্তাকিম বাবু, ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আলাদিন মোল্লা, পৌর ছাত্রদলের সদস্য তানভীর আহমেদ, শাহিনুল ইসলাম হৃদয়, ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন শাকিল, রাকিব ভূইয়া, ইসলামাবাদ ফাজিল মাদ্রাসা শাখার সভাপতি শেখ মোহাম্মদ রিফাত, গৌরীপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতা কাইয়ুম ইসলাম আকন্দ, মোহাম্মদ নাসিম আকন্দ, ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান, রাহাদ, সুমন, অন্তর প্রমুখ।
জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট পাক হানাদার বাহিনী শালিহর গ্রামের অনেক বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয় ও নিরীহ ১৪ জন মানুষকে গুলি করে হত্যা করে। তাদের মধ্যে ১৩ জন হিন্দু ও একজন মুসলমান ছিলেন। তাদের সবাইকে মাটি চাপা দেয় হানাদার বাহিনী। এছাড়া তাঁরা আরও দুইজনকে ধরে নিয়ে যায়, যাদের পরবর্তীতে আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। কয়েক বছর আগে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করলেও এর রক্ষণাবেক্ষণ করে না প্রশাসন। বর্তমানে এটি ভবঘুরে আর মাদকসেবিদের আস্তানা। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা আর গরুছাগলের বিষ্টা।
গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আবিদ হাসান রাহাত বলেন- প্রতিবছর ২১ আগস্ট উপজেলা প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষ এখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। আমরা ছাত্রদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কাছে জানতে পারি স্মৃতিসৌধটা পরিত্যক্ত ও নোংরা হয়ে আছে, তাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করে এখানে ১৬ জন শহিদের নামে ১৬ গাছ লাগিয়েছি। তিনি আরও বলে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও এখানে শহিদরা আজও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি, তাদের পরিবারগুলো আজও সুবিধা বঞ্চিত, কিছু পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি শহিদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানান।
গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ আফিয়া আমীন পাপ্পা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন- স্মৃতিসৌধটি প্রশাসনিভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে। শহিদদের পরিবারের কাছ থেকে কাগজপত্র নেয়া হয়েছে, তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।