Author
৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

যেখানে প্রাণ দিয়েছিলেন জব্বার, ৫৫ বছর পর সেখানেই প্রথম শ্রদ্ধাঞ্জলি

মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার আড়াপাড়া গ্ৰামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার। যে মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করেছিলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৫ বছরেও সেই স্থানটি সঠিকভাবে চিহ্নিত ছিল না। ফলে শহীদের স্মৃতিবিজড়িত সেই স্থানেও এতদিন আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ হয়নি।

অবশেষে সহযোদ্ধা ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে চিহ্নিত করা হয়েছে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের শহীদ হওয়ার স্থান।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর রোববার (৩০ আগস্ট) প্রথমবারের মতো সেই স্মৃতিবিজড়িত মাটিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর শহীদের স্মৃতির স্থানে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী কুল্লাগড়া ইউনিয়নের আড়াপাড়া গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে এ শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ আব্দুল জব্বারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদের জন্যও মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে এই স্থানেই শহীদ হন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি চিহ্নিত ছিল না। পরে যুদ্ধের সময় তার সঙ্গে থাকা সহযোদ্ধাদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানটি শনাক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, স্থানটি চিহ্নিত করার পর প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে একটি স্থাপনা করে দেওয়া হয়। আজ আমরা এখানে এসে প্রথমবারের মতো শহীদ আব্দুল জব্বারের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছি। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর তার শহীদ হওয়ার স্থানে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আবেগের ও গর্বের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, আব্দুল জব্বার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। ওই যুদ্ধে আমরা মোট ১০ জন ছিলাম। যুদ্ধের একপর্যায়ে আব্দুল জব্বার শহীদ হন এবং আরও একজন মুক্তিযোদ্ধা আহত হন। আল্লাহর হেফাজতে আমরা বাকিরা বেঁচে যাই। আমি ওই যুদ্ধে তাদের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিলাম। সেই দিনের স্মৃতি আজও আমার মনে অমলিন হয়ে আছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মদন গোপাল শর্মা বলেন, আগে এই জায়গাটি চিহ্নিত ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের সময় আব্দুল জব্বারের সঙ্গে যারা ছিলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই জায়গাটি শনাক্ত করা হয়েছে। এখন আমরা সব মুক্তিযোদ্ধা মিলে তার শহীদ হওয়ার স্থানটি চিহ্নিত করতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, এ বছরই প্রথমবারের মতো এখানে শহীদ আব্দুল জব্বারের জন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দোয়া করা হলো। এখন থেকে প্রতিবছরই এই স্থানে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে তার আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে এই স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য বীর সন্তান দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে; কিন্তু অনেক শহীদের স্মৃতিবিজড়িত স্থান এখনও যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। শহীদ আব্দুল জব্বারের শহীদ হওয়ার স্থানটি চিহ্নিত হওয়া এবং সেখানে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ সৃষ্টি হওয়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে শহীদ আব্দুল জব্বারের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা ও বীরত্বের স্মৃতিচারণ করে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সহযোদ্ধারা তার সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন।

দীর্ঘ ৫৫ বছর পর যে মাটিতে দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার, সেই মাটিতে প্রথমবারের মতো শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে তার আত্মত্যাগ নতুন করে স্মরণ করা হলো। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগ তুলে ধরতে এই স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে।

Facebook Comments Box
১ম লাইন রঙ
২য় লাইন রঙ
ফন্ট সাইজ (65px)

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৬ লাখ, ৩ মাসে বেড়েছে ৩ লাখ

জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়: তারেক রহমান

ঠাকুরগাঁওয়ে মণ্ডা–মিঠাই খেয়ে দিনাজপুরে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নাচ দেখলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করলেন আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ

নতুন পে-স্কেলে কার কত বাড়লো, কে পেলো বেশি

‘ঘুষ.সাইটে’ ৩৩০ কোটি ছাড়িয়েছে ঘুষের অভিযোগ, পেছনের গল্প শোনালেন শাহেদ

মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে বাকৃবিতে বিক্ষোভ, সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

রাসুল (সা.)-এর অতুলনীয় বাকশৈলী

ভূমি অফিস পরিদর্শনে গিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী—‘সব খালি, সবগুলোকে সাসপেন্ড করেন’

১০

কিশোর শাহেদের ‘ঘুষ.সাইট’ ।। ময়মনসিংহে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুই কর্মীকে নোটিশ

১১

ছয় দিন বন্ধ থাকার পর মেরামত করা ইঞ্জিনে ‘গরিবের ট্রেন’ চলাচল শুরু

১২

চরিত্র বদলাতে না পারলে চাকরি করার দরকার নেই: বিমানমন্ত্রী

১৩

ময়মনসিংহে ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২

১৪

মিশুক ছিনতাই করে চালককে হত্যা, একজনের মৃত্যুদণ্ড

১৫

‘ঘুষ ডট সাইট’ নিয়ে সংবাদ ।। প্রকাশ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুই কর্মীকে শোকজ

১৬

নেত্রকোণায় আবু আব্বাস এর মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

১৭

কলমাকান্দায় গাছ উপড়ে ফেলার মামলায় গ্রেপ্তার-৩

১৮

মুক্তাগাছা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের উপদেষ্টা পরিষদ ও কমিটি গঠন, বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতর

১৯

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ১৩৩ সদস্যের কমিটি অনুমোদন

২০
শিরোনামঃ
দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৬ লাখ, ৩ মাসে বেড়েছে ৩ লাখজবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়: তারেক রহমানঠাকুরগাঁওয়ে মণ্ডা–মিঠাই খেয়ে দিনাজপুরে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নাচ দেখলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূতজুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করলেন আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপনতুন পে-স্কেলে কার কত বাড়লো, কে পেলো বেশি‘ঘুষ.সাইটে’ ৩৩০ কোটি ছাড়িয়েছে ঘুষের অভিযোগ, পেছনের গল্প শোনালেন শাহেদমুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে বাকৃবিতে বিক্ষোভ, সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিরাসুল (সা.)-এর অতুলনীয় বাকশৈলীভূমি অফিস পরিদর্শনে গিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী—‘সব খালি, সবগুলোকে সাসপেন্ড করেন’