Author
২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মৃত্যুর আগেই ‘চল্লিশা’, অংশ নিল হাজারো মানুষ

মুসলিম রীতিতে সাধারণত মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর স্বজন ও এলাকাবাসীকে খাওয়ানো হয়। কিন্তু কিশোরগঞ্জের রফিকুল ইসলাম (৬২) জীবিত থাকা অবস্থাতেই ওই ‘চল্লিশা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। এমন ঘটনার খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

জেলার হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম। তিনি বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ চল্লিশা আয়োজন করেন। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দল বেঁধে অংশ নেন।

জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম এলাকায় একজন বিত্তশালী ব্যক্তি। তার বেশ জমিজমাও রয়েছে। সম্প্রতি সরকারি রাস্তা নির্মাণের জন্য তার দোকান ও জমির একটি বড় অংশ অধিগ্রহণ করে সরকার। এ বাবদ তিনি মোটা অঙ্কের টাকা পান। সেই টাকায় মৃত্যুর আগেই  নিজের চল্লিশার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন।

রফিকুলের চাচাতো ভাই আবদুস সালাম বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে রফিকুল নিজ  গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় গিয়ে দাওয়াত দিয়েছেন। শুক্রবার শামিয়ানা টানিয়ে বাবুর্চি দিয়ে রান্নার ব্যবস্থা করা হয়। আগের রাতেই জবাই করা হয় কয়েকটি গরু ও খাসি।

আয়োজক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি মারা যাওয়ার পর হয়ত আমার স্বজনেরা সবাইকে ডেকে এভাবে খাওয়ানোর আয়োজন নাও করতে পারেন। তাই নিজের ইচ্ছায় জীবিত অবস্থাতেই আয়োজনটি করেছি।

এ সময় তিনি আরও জানান, তার বয়স হয়েছে। শারীরিকভাবেও তিনি দুর্বল হয়ে পড়ছেন। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। তাই এ আয়োজন।

অবশ্য জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করার কোনো নিয়ম ইসলামে নেই বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, মানুষের কখন ও কীভাবে মৃত্যু হবে, তা কেউ আগে থেকে বলতে পারেন না। এমনকি মৃত্যুর ৪০ দিন পর চল্লিশা করাও ইসলামের বাধ্যতামূলক কোনো বিধান নয়। দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে আপ্যায়ন করা বা মৃত ব্যক্তির বন্ধু-স্বজনদের খাওয়ানো যেতে পারে। তবে জীবিত অবস্থায় ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজের চল্লিশার আয়োজন করা ইসলাম সমর্থন করে না।

Facebook Comments Box
১ম লাইন রঙ
২য় লাইন রঙ
ফন্ট সাইজ (65px)

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গুম-খুনের শিকার এবং জুলাইয়ে শহীদ ও আহত পরিবারের ৭৪ জনকে নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহে ট্রাক চাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত

তিন জেলায় আইন-শৃঙ্খলা কার্যক্রমে মাঠ প্রশাসনের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ

মুক্তাগাছার মন্ডা নেত্রকোণার বালিশ মিষ্টির ইতিহাস

জনপ্রশাসন: কারও হাতে তিন দায়িত্ব, কারও কাজ নেই

২০০ ফুট ওপরে যুবকের ‘দুঃসাহসিক’ কাণ্ড, ৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার

রপ্তানিমুখী হিমায়িত পণ্য খাত : হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল

নেত্রকোনায় শ্লীলতাহানির পর প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

১০

লাউয়াছড়ার রামবাসক

১১

নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে স্বপ্নের পথে ছুটছে তারা

১২

রাতের আঁধারে ধনু নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পাঁচজনকে আড়াই লাখ টাকা অর্থদণ্ড

১৩

যেখানে প্রাণ দিয়েছিলেন জব্বার, ৫৫ বছর পর সেখানেই প্রথম শ্রদ্ধাঞ্জলি

১৪

বাজার নামকরণের বিরোধে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ৩০

১৫

খালিয়াজুরীতে অবৈধ বালু উত্তোল।। নৌকাসহ আটক ৫

১৬

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

১৭

১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

১৮

পূর্বধলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

১৯

কিশোরগঞ্জে কাভার্ডভ্যান-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩

২০
শিরোনামঃ
গুম-খুনের শিকার এবং জুলাইয়ে শহীদ ও আহত পরিবারের ৭৪ জনকে নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রীমক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীময়মনসিংহে ট্রাক চাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহততিন জেলায় আইন-শৃঙ্খলা কার্যক্রমে মাঠ প্রশাসনের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশমুক্তাগাছার মন্ডা নেত্রকোণার বালিশ মিষ্টির ইতিহাসজনপ্রশাসন: কারও হাতে তিন দায়িত্ব, কারও কাজ নেই২০০ ফুট ওপরে যুবকের ‘দুঃসাহসিক’ কাণ্ড, ৭ ঘণ্টা পর উদ্ধাররপ্তানিমুখী হিমায়িত পণ্য খাত : হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে দুই হাজার কোটি টাকার তহবিলনেত্রকোনায় শ্লীলতাহানির পর প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ