Author
১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইরান নিজেকে টিকিয়ে রাখতে শত্রুর সঙ্গে যেভাবে সমঝোতা করে

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাঁচ মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু সংঘাত অবসানের কোনো চুক্তির আশা এখনো ঘোলাটে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁদের কোনো সরাসরি আলোচনা হচ্ছে না।

একদিকে তেহরান থেকে অব্যাহতভাবে প্রতিশোধের হুমকি আসছে, অন্যদিকে পশ্চিমা, বিশেষ করে ডানপন্থী অনেক বিশ্লেষক দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর মতাদর্শের কারণে ইরান কোনো সমঝোতায় আসতে পারবে না। তবে এ ধারণা ভুল।

ইরানের সংবিধান ও সাম্প্রতিক ইতিহাসের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, ইসলামি প্রজাতন্ত্র কেবল অন্ধ মতাদর্শ দিয়ে চলে না। বর্তমান শাসনকাঠামো যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করতে পিছপা হবে না, যদি তা তাদের মূল নীতি, অর্থাৎ ‘শাসনের টিকে থাকা’ নিশ্চিত করে।

১৯৮৮ সালের জানুয়ারিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি এক বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, নামাজ, রোজা ও হজের চেয়েও ইসলামি সরকারের অবস্থান ও গুরুত্ব ওপরে। এর মাধ্যমে তিনি ‘ভেলায়েতে ফকিহ’–সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ বিতর্কের অবসান ঘটান। পরের মাসে তিনি একটি নতুন প্রশাসনিক সংস্থা গঠনের নির্দেশ দেন। এর কাজ ছিল পার্লামেন্ট ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অচলাবস্থা দূর করে ব্যবস্থার মূল স্বার্থ রক্ষা করা।

১৯৮৯ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই নীতি ১১২ অনুচ্ছেদ হিসেবে স্থায়ী রূপ পায়। গঠিত হয় ‘এক্সপিডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিল’।

মূল বার্তাটি খুবই স্পষ্ট। শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা বা ‘হেফজে নেজাম’ হলো সবচেয়ে বড় ধর্মীয় দায়িত্ব। এ ব্যবস্থার প্রয়োজনে যেকোনো ধর্মীয় বিধান থেকে সরে আসার আইনি ক্ষমতা ওই পরিষদকে দেওয়া হয়।
পরবর্তী বছরগুলোতে এই নীতি বাস্তবায়িত হতে দেখা যায়। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের প্রতি শত্রুতার ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য ছিল। তেহরান তাদের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অবস্থানকে একটি নৈতিক নীতি হিসেবে তুলে ধরে। এর উদ্দেশ্য পশ্চিমা আধিপত্য ও উপনিবেশবাদের বিরোধিতা করা। এ অবস্থানের কারণে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক সহানুভূতি পেয়েছে। দেশের ভেতরে দমন-পীড়ন সত্ত্বেও অনেকে ইরানকে আন্তর্জাতিক প্রতিরোধের মূল স্তম্ভ মনে করেন।

Facebook Comments Box
১ম লাইন রঙ
২য় লাইন রঙ
ফন্ট সাইজ (65px)

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাহাড় ঝরনা সিলিকা বালুর মিতালী প্রকৃতির সাজঘর কলমাকান্দা

ধর্মীয় উসকানিতে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে ছাড় নয়: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা

পানিতে ডুবে এক দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

পেঁয়াজ সংরক্ষণে নতুন প্রযুক্তি আনছে বাকৃবি, ক্ষতি কমবে ১৬ শতাংশ

শুধু গাড়ি কমানো নয়, লংমার্চ প্রত্যাহার করা উচিত: এমরান সালেহ প্রিন্স

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

মিষ্টির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, বরসহ আহত ৪৬

দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ।। সুস্থ মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম

প্রবাস থেকে ফিরে ব্যবসা শুরুর তিন মাসেই আগুনে সব শেষ

১০

খালিয়াজুরীতে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

১১

মোহনগঞ্জে নানা আয়োজনে শুভ জন্মাষ্টমী পালিত

১২

ময়মনসিংহে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে মদসহ গ্রেপ্তার ৪

১৩

কেন্দুয়ায় শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ

১৪

ঝিনাইগাতীতে জন্মাষ্টমী পালিত

১৫

সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করবেন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

১৬

দুর্গাপুরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

১৭

ভালুকায় অটোরিকশার ধাক্কায় মাদ্রাসাছাত্র নিহত

১৮

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তারাকান্দায় আলোচনা সভা ও র‌্যালি

১৯

ময়মনসিংহে চলন্ত ট্রেনের বগি বিচ্ছিন্ন

২০
শিরোনামঃ
পাহাড় ঝরনা সিলিকা বালুর মিতালী প্রকৃতির সাজঘর কলমাকান্দাধর্মীয় উসকানিতে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে ছাড় নয়: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীজরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবাপানিতে ডুবে এক দিনে ৫ শিশুর মৃত্যুপেঁয়াজ সংরক্ষণে নতুন প্রযুক্তি আনছে বাকৃবি, ক্ষতি কমবে ১৬ শতাংশশুধু গাড়ি কমানো নয়, লংমার্চ প্রত্যাহার করা উচিত: এমরান সালেহ প্রিন্সগণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রীমিষ্টির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, বরসহ আহত ৪৬দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ।। সুস্থ মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীমপ্রবাস থেকে ফিরে ব্যবসা শুরুর তিন মাসেই আগুনে সব শেষ