দুই বাস মালিক সমিতির মধ্যে সমঝোতার পর কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে চার পরিবহন কোম্পানির বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোর থেকে এ রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে শুরু হওয়া ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা রাত ১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয় কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
ধর্মঘটের কারণে রোববার দিনভর দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। পূজার ছুটি শেষে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে বাস না পেয়ে অনেকে বিকল্প পরিবহনে যাতায়াত করেন। বাসের সংকটের কারণে রেলস্টেশনেও যাত্রীদের চাপ বাড়ে।
এদিকে, ধর্মঘল চলাকালে অনন্যা সুপার পরিবহনের একটি বাসে গাজীপুর পর্যন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে ৪০০ টাকা ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মহাখালী পর্যন্ত নির্ধারিত ভাড়া ৩৮০ টাকা হলেও গাজীপুর পর্যন্ত ২০ টাকা বেশি নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। গাজীপুর থেকে বাস খালি ফিরতে হবে—এমন যুক্তিতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
সোমবার সকালে কিশোরগঞ্জের গাইটাল বাস টার্মিনালে বিভিন্ন কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে যাত্রীদের বাসে উঠতে দেখা যায়। অনন্যা পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, রোববার রাতে মহাখালী ও কিশোরগঞ্জের বাস মালিকদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এরপর সোমবার ভোর থেকে স্বাভাবিকভাবে বাস চলাচল শুরু হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক আনিসুজ্জামান বাবুল গণমাধ্যমকে বলেন, কিশোরগঞ্জের মালিকদের নতুন ও উন্নতমানের বাসের বিপরীতে একই রুটে পুরোনো ও নিম্নমানের বাস চালানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে অনন্যা, অনন্যা ক্লাসিক, উজানভাটি ও জলসিঁড়ি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে সমঝোতার মাধ্যমে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টায় কিশোরগঞ্জ থেকে অনন্যা ও অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের প্রথম দুটি বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। মহাখালী থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে দিনের শেষ বাসটি রাত ৯টায় ছাড়ার কথা রয়েছে।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর এ রুটে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে যাত্রীদের মধ্যে।
মন্তব্য করুন