কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীর ত্রি-সেতু এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মাদ্রাসাশিক্ষক মাওলানা শাহ মনিরুজ্জামান জসিম তালুকদার (৪৫) মারা গেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে তাঁর শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাত বা নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নিহত জসিম তালুকদার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের মাজদিহী এলাকার আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে। তিনি শ্রীমঙ্গলের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন।
রোববার সকালে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের চণ্ডিবের এলাকার রাজিব মিয়া অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তিকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে ওই ব্যক্তির পরিচয় মাওলানা শাহ মনিরুজ্জামান জসিম তালুকদার হিসেবে শনাক্ত হয়।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর গণমাধ্যমকে বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ওই ব্যক্তির শরীরে বিষাক্ত কোনো পদার্থের প্রভাব থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, পরে শ্রীমঙ্গল এলাকার তানভীর মিয়া নামের এক স্বজন হাসপাতালে এসে ওই দিনই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাবলিগ জামাতে যাওয়ার কথা বলে শুক্রবার বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন জসিম তালুকদার। পরে ভৈরবের ত্রি-সেতু এলাকা থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে তাঁর শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাত বা শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
মন্তব্য করুন