‘মানবতার জননী মা ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’- এই মূলসুরে ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঘিরে গারো পাহাড়ে বইছে আমেজ।
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ তীর্থোৎসব ২৯ ও ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বারমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লীতে। এরই মধ্যে উৎসবের প্রস্তুতির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আর প্রশাসনের পক্ষ হতে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।জানা গেছে, পাহাড়ের বুকে ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত বারমারী সাধু লিওর এ ধর্মপল্লির ১৯৯৮ সাল থেকে বার্ষিক তীর্থ স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
পাহাড়ের বুকে পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে তৈরি এই ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় তীর্থযাত্রা।বারোমারী খ্রিষ্টান মিশনের ফাদার তরুণ বানোয়ারী বলেন, প্রতি বছর অক্টোবরের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসব।
শুধু শেরপুর নয়, দেশ বিদেশের প্রায় লাখো পূণ্যার্থী অংশ নেয় এই তীর্থযাত্রায়। তীর্থ উৎসবের মূল আকর্ষণ হচ্ছে আলোক শোভাযাত্রা। এছাড়াও খ্রিষ্টযাগ, ব্যক্তিগত প্রার্থনা, নিশি জাগরণ, জীবন্ত ক্রুশের পথ, মহাখ্রিষ্টযাগসহ নানা অনুষ্ঠান। এবার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশের পাল পুরোহিত।শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম বলেন, তীর্থ উদযাপনে কয়েক স্তরের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চারশতাধিক পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশও থাকবে।
এছাড়াও এসআরবি, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দুই দিনব্যাপী মিশন পল্লিতে মোতায়েন থাকবে। আশা করছি এখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই তীর্থ উৎসব সম্পন্ন হবে।জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, খ্রিষ্টান ধর্মের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠান শান্তি পূর্ণভাবে শেষ করার জন্য সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে বারোমারী খ্রিষ্টান মিশনের ফাদার তরুণ বানোয়ারীর নেতৃত্বে একটি টিমের সঙ্গে কয়েক দফায় আলোচনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন