ময়মনসিংহে গরুর মাংস কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা, আকাশচুম্বী লেবুর দাম

11
ময়মনসিংহে গরুর মাংস কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা, আকাশচুম্বী লেবুর দাম

আসন্ন রমজান ঘিরে ময়মনসিংহের বাজারে বেড়েছে মাংস, লেবু এবং শশাসহ বেশ কয়েকপ্রকার সবজির দাম। ব্রয়লার মুরগী কেজিতে ১৫টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮৫টাকা, গরুর মাংস কেজিতে বেড়েছে ৮০টাকা। আকাশচুম্বী লেবুর দাম, প্রতিহালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ১২০টাকা পর্যন্ত।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর সবচেয়ে বড় কাচাবাজার মেছুয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগী প্রতি কেজি কোথাও ১৮০ এবং কোথাও ১৮৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সংবাদকর্মী দেখে তড়িগড়ি করে ১৮৫ টাকার মুরগীর দাম নির্ধারণ করেন ১৮০টাকা। দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ ক্রেতারা।

মুরগী কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ৪-৫ দিন আগেও ব্রয়লার মুরগী কেজি ১৭০ টাকা ছিল। আজ ১৮৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে, কোথাও ১৮০টাকা। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে এসব করছেন।

এসময় মুরগী ব্যবসায়ী রুস্তম আলী বোর্ডে লেখা চার্ট সংশোধন করে ব্রয়লার প্রতিকেজি মুরগী ১৮৫টাকার স্থলে ১৮০টাকা লিখেন। এসময় তিনি বলেন, মানুষের কাছে দাম একটু বেশি না চাইলে চলে না। তারা কোন না কোন ভাবে আমাদেরকে ৫-৭টাকা কম দিয়ে থাকেন।

আরেক ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, শুধু ব্রয়লার মুরগী নয় দাম বেড়েছে সোনালী এবং দেশী মুরগীতেও। ৫০০ টাকা কেজি দেশী মুরগী বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা, ২৭০ টাকার সোনালী মুরগী বিক্রি করতে হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজিতে। আমাদের কিছু করার নেই। শীতে অনেক মুরগী মারা গেছে। তাই দাম একটু বেড়েছে।

ক’দিন আগে গরুর মাংস ৭৩০টাকা কেজি বিক্রি হলেও আজকের বাজারে কেজিতে দাম ৭০টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০০টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে গরু কম উঠছে তাই দাম একটু বেশি রাখা হচ্ছে।

ক্রেতা আফরোজা সুলতানা বলেন, রমজান মাস আসলেই অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বেড়ে যায়। ৮০০টাকা কেজির কম কোন দোকানেই গরুর মাংস পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে। বাধ্য হয়ে আমরা দাম বেশি দিয়েই গরুর মাংস কিনছি।

রেকর্ড পরিমান দাম বেড়েছে লেবু ও শশার। রমজানে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় লেবু এবং শশার দাম বেশি হওয়ায় ক্ষোভ ঝরাচ্ছেন ক্রেতারা।

ক্রেতা এরশাদ আলী বলেন, প্রতিহালি লেবুর দাম চাচ্ছে সর্বনিম্ন ৪০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। ৪০ টাকা হালি লেবুর মান খুবই খারাপ। রমজান আসলেই নানা অজুহাতে এসবের দাম বাড়ানো হয়। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। শশাও বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে কেজিতে। বাজার মনিটর জোরদার না করা হলে চলা অসম্ভব হয়ে পড়বে আমাদের মত মানুষের।

ব্যবসায়ী হান্নান মিয়া বলেন, রমজান উপলক্ষে লেবুর দাম বাড়েনি। প্রায় মাসখানেক ধরেই চড়া দাম। কারণ আমদানী কম।

জেলা প্রশাসক মো.সাইফুর রহমান বলেন, রমজান কেন্দ্র করে যেনো ব্যবসায়ীরা কোন দ্রব্যের অতিরিক্ত দাম নিতে না পারেন, সেই লক্ষ্যে মোবাইল টিম কাজ করছে। ব্যবসায়ীদের সাথেও করা হয়েছে আলোচনা। নগরের বড় বড় বাজার ছাড়াও প্রত্যেক উপজেলায় মোবাইল টিম কাজ শুরু করেছে। খাদ্যে ভেজালসহ সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করে কোন ব্যবসায়ী যদি অতিরিক্ত মুনাফা লুটতে চায় তাহলে সাথে সাথেই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here