ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং “অপ্রাপ্য অপশন” কার্যকর না হওয়ায় হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের বহু শিশু নাগরিক পরিচয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে শিশু পাচার এবং বাণিজ্যিক যৌন শোষণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে অনেক নিবন্ধন কর্মকর্তা বিকল্প পদ্ধতিতে জন্মনিবন্ধন করতে অনাগ্রহী। তারা জানান, স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় ঝুঁকি নিতে রাজি নন। যদিও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী যাচাই সাপেক্ষে বিকল্প প্রমাণের ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মনিবন্ধন না থাকলে শিশুরা সহজেই পরিচয়হীন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি শিশুপাচারকারী চক্রের জন্য সুযোগ তৈরি করে। সম্প্রতি কয়েকটি অভিযোগে দেখা গেছে, কিছু অসাধু চক্র ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি করে শিশুদের পাচার ও যৌন শোষণে জড়াচ্ছে।
সুশীল সমাজ ও শিশু অধিকারকর্মীরা “অপ্রাপ্য অপশন” কার্যকরভাবে প্রয়োগ, মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, স্পষ্ট নির্দেশনা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, জন্মনিবন্ধন হল একটি শিশুর অধিকার এবং সুরক্ষার প্রথম ধাপ। এটি নিশ্চিত করা না হলে শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
রূপান্তর নামে একটি বেসরকারী সংস্থার ময়মনসিংহ জেলা সমন্বয়কারী জানান, মা-বাবার জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় সন্তানদের জন্মনিবন্ধন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, “অপ্রাপ্য অপশন সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রচারণা বৃদ্ধি করলে ভুক্তভোগীরা সহজে উপকৃত হতে পারে এবং শিশুরা নাগরিক সনদ থেকে বঞ্চিত হবে না।”
অভ্যন্তরীণ যৌন পাচারের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য কাজ করা এনজিও ও সমাজকর্মীরা স্থানীয় প্রশাসনকে শিশুদের জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।