শেরপুরে মাঠ পর্যায়ে প্রান্তিক খামারি ও কৃষকদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রাণিসম্পদ দফতরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। খামারিদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের না থাকার এই সুযোগ নিচ্ছেন অদক্ষ ও হাতুড়ে চিকিৎসকরা। এতে মাঝেমধ্যেই মারা যাচ্ছে প্রাণী। নি:স্ব হচ্ছেন খামারিরা।
অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তারা মাঝেমধ্যে মাঠে গেলেও মোটা অঙ্কের ফি গুণতে হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সীমিত জনবল সংকটের দোহাই দিয়েছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি গরু হারিয়ে, এভাবেই বিলাপ করছিলেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ডেফলাই গ্রামের প্রান্তিক কৃষক ও খামারি শাহজাহান মিয়া ও তার ভাই। তাদের অভিযোগ, অসুস্থ প্রাণী রেখে মিটিংয়ে ব্যস্ত প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা।
শাহজাহান মিয়া ও তার ভাই রফিকুলের চারটি গরু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, তিনি জেলা অফিসে মিটিংয়ে রয়েছেন। অসুস্থ গরু-ছাগল রেখে মিটিংয়ের দোহাই দিয়ে বিকেলে ঘটনাস্থলে গেলেও বাঁচানো যায়নি চারটি গরু। তড়িঘড়ি করে জবাই করে মাংস বণ্টন করে নেন এলাকাবাসী।
এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অবহেলার কারণে জেলাজুড়ে বাড়ছে অদক্ষ ও হাতুড়ে প্রাণী চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য। এতে খামারিদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ভুল চিকিৎসার শিকারও হতে হচ্ছে।
তবে অভিযুক্ত ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসান বলছেন, জনবল সংকটে পুরো উপজেলায় সময়মতো সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। মাত্র দুজন চিকিৎসক দিয়ে পুরো উপজেলার প্রান্তিক খামারিদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক ভুঁইয়া বলেছেন, ডেফলাইয়ের ঘটনা খতিয়ে দেখতে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
জেলার প্রায় ২৮ হাজার ক্ষুদ্র কৃষক এবং ১৪ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের পশুর চিকিৎসা নিশ্চিতে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ,- এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় খামারিদের।
মন্তব্য করুন