দুর্গাপুর প্রতিনিধি : জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, নির্বাচনের আগে তিনি দুর্গাপুরকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে কাজ করছেন। গত সাত মাসে এ বিষয়ে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তার বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।s

কায়সার কামাল বলেন, ‘আগে একটি মতবিনিময় সভায় আমি ওয়াদা করেছিলাম, আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত দুর্গাপুর গড়ে তুলব। এই সাত মাসে আমি বা আমরা সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত দুর্গাপুর গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। কতটুকু সফল হয়েছি, তার বিচারের ভার আপনাদের।’

তিনি আরও বলেন, তিনি শতভাগ সফল হয়েছেন এমন দাবি করছেন না। তবে এ বিষয়ে তাঁদের সদিচ্ছা রয়েছে এবং তাঁরা কাজ করছেন। তাঁর ভাষ্য, গত দেড় দশকের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ বা সমস্যা সাত মাসের মধ্যে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়।

ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে কায়সার কামাল বলেন, তাঁদের মূল চাহিদা হলো নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা। এ জন্য ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাঁদের কেউ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কিংবা সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি হতে পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যত বড়ই পাওয়ারফুল হোক, আইনের চেয়ে পাওয়ারফুল কেউ না। আইনের হাত সবচেয়ে লম্বা। সে যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আমরা আনব, ইনশাআল্লাহ।’

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা অবশ্যই মুনাফা করবেন; তবে মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের প্রতি ন্যায্যতা বজায় রাখতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘মুনাফা মানে আমাদের জনগণকে গলায় দড়ি দিয়ে মুনাফা করা নয়। সুযোগের সৎ ব্যবহার করেন, অসৎ ব্যবহার করবেন না।’

পণ্য ওজনের ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, ৪০ কেজির মণকে ৪৩ কেজিতে পরিণত করা উচিত নয়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য ও সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এ ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

কায়সার কামাল বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি ‘কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী’ এমন কথা বলেছিলেন। কাজের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও মানবিক দুর্গাপুর গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নিজের অধিকার ভোগ করবেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবেন। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত ও মানবিক দুর্গাপুর গড়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাজার বণিক সমিতির সভাপতি রনজিত সেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত, থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ, উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, দুর্গাপুর বাজার ব্যবসায়ী ও বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বাজারের ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।