কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা: বর্ষা বিদায়ের প্রাক্কালেও কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমার লক্ষণ নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৪০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ জনে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩৩ জন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে—২৭ জন। ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১৮ জন, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮ জন এবং বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ছাড়া করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, কুলিয়ারচরে ৬ জন, তাড়াইলে ৪ জন, পাকুন্দিয়ায় ৬ জন, কটিয়াদীতে ৫ জন, নিকলীতে ৩ জন এবং হোসেনপুরে ৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অন্যদিকে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন এবং প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৫৯৮ জনের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৪ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১৪ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়াই যথেষ্ট নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। বিশেষ করে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তারা আরও জানান, জ্বরসহ ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত।
মন্তব্য করুন