নেত্রকোনার মদন উপজেলায় কৃষকের ছদ্মবেশে হাওর থেকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি আতিকুল ইসলাম ওরফে কুল ইসলামকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কৌশলে পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের মাগনা গ্রামের হাওর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার আতিকুল ইসলাম নায়েকপুর ইউনিয়নের মাগনা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। হত্যার শিকার কৃষক বাচ্চু মিয়া (৬০) একই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ বিকেলে কৃষক বাচ্চু মিয়া ধানখেতে গিয়ে দেখতে পান, কয়েকটি গরু তার খেতের ধান খাচ্ছে। এ নিয়ে গরুর মালিক আতিকুল ইসলামের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। এর জেরে আতিকুল তার লোকজন নিয়ে বাচ্চু মিয়ার ওপর হামলা করেন। এ সময় আতিকুল ইসলামের বাঁশের লাঠির আঘাতে বাচ্চু মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় পরদিন নিহতের ছেলে মো. আলামিন বাদী হয়ে মদন থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আতিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকেই আতিকুল ইসলাম কৌশলে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বাড়ির পাশের হাওরে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ কৃষকের ছদ্মবেশে হাওরে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
মদন থানার ওসি সালাহউদ্দিন করিম বলেন, কৃষক বাচ্চু মিয়া হত্যা মামলার দুই থেকে তিনজন আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। আতিকুল ইসলামসহ অন্যরা পলাতক ছিলেন।
তিনি বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। গতকাল হাওর এলাকায় আতিকুলের অবস্থান শনাক্তের পর কৃষকের ছদ্মবেশে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
কৃষকের বেশে পুলিশ, মাঝে গ্রেফতার আতিকুল ইসলাম।
মন্তব্য করুন