মুক্তাগাছা প্রতিনিধি: ‘যেখানে আমি, সেখানেই পরিচ্ছন্নতা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য মুক্তাগাছা গড়ে তুলতে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা চত্বর, উপজেলা গেট থেকে শহরের নতুন বাজারস্থ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবী ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
এর আগে সকালে উপজেলা মিলনায়তনে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও শহরের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তাগাছা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সাংবাদিক এজেডএম ইমাম উদ্দিন মুক্তা, সদস্য সচিব সাংবাদিক ফেরদৌস আলম, মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তানবীর আহম্মেদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য, ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
আলোচনা সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কৃষ্ণ চন্দ্রের নেতৃত্বে উপজেলা চত্বরের বাগান ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পরে উপজেলা গেট থেকে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত সড়ক ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
একই সঙ্গে মশকনিধন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রমও চালানো হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সম্মিলিতভাবে সড়ক ও আশপাশের এলাকার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মুক্তাগাছাকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও রবিবার বিদ্যালয়ে ‘ক্লিন সানডে’ কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি মাসের ১ তারিখে সরকারি দপ্তরগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকাকে আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করে তোলা হবে। এসব স্থান সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নাগরিকরা সেখানে এসে মুক্ত পরিবেশে সময় কাটাতে পারেন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্ম যাতে মুক্তাগাছার ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে পরিচিত হতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মুক্তাগাছা একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন