ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও বাংলাদেশিদের হয়রানি বন্ধের দাবিতে রাজধানীতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফোরাম। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সুরঞ্জন ঘোষ।
সুরঞ্জন ঘোষ বলেন, ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে— এমন অভিযোগ তুলে যারা কর্মসূচি দিয়েছেন, তাদের আগে নিজেদের দেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির দিকে তাকানো উচিত।
তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রদেশে শত শত বছরের পুরোনো একটি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মসজিদে আজান দেওয়া এবং মুসলমানদের কোরবানি দেওয়া নিয়েও প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ করেন। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের প্রতিবাদ না করার সমালোচনা করেন সুরঞ্জন ঘোষ।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুর্নীতির অভিযোগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করলে সেটিকে সংখ্যালঘু নির্যাতন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ প্রসঙ্গে সুরঞ্জন ঘোষ বলেন, এটি সংখ্যালঘুদের সংগঠন নয়, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন। সংগঠনটি সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করে রাজনীতি করে। পূজা পরিষদের নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তেরও দাবি জানান।
সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান বলেন, ভারতে সংখ্যালঘু নিপীড়নের বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক প্রতিবেদনগুলোতে ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক সনজিত কুমার দে বলেন, ভারতে ভ্রমণের সময় বাংলাদেশি নাগরিকরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের হয়রানি অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি শ্যামল চক্রবর্তী, মো. আল আমিন, মো. আক্তার, মো. ইমরান হোসেন, আল-আমিন (সুমন), জ্যাকসন গোমেজ ও মো. জহিরুল ইসলাম জাহিদসহ অনেকে।
মন্তব্য করুন