লোকসাহিত্যিক, গবেষক ও বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘লোকসাহিত্য বিশারদ’ মোহাম্মাদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরীর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় তাঁর সাহিত্যকর্ম, জীবনসংগ্রাম, দেশপ্রেম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের উদ্যোগে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘সাহিত্য সংস্কৃতি ঐতিহ্যের সন্ধানে, আমরা মিশি প্রাণে প্রাণে’ স্লোগান সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে এই লোকসাহিত্যিকের জীবন ও কর্ম তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন চিন্তা জগৎ মানবিক কল্যাণ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান শাহ্ আলম তালুকদার।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন লোকসাহিত্যিক ও পালা-নাট্যকার রাখাল বিশ্বাস এবং কবি, চারণ সাংবাদিক ও কেন্দুয়া উপজেলা মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নূরুল হক ভূঞা, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও গীতিকার মো. আবুল বাশার তালুকদার, কবি ও সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার, কবি ও গীতিকার মো. জহিরুল ইসলাম, সাহিত্যপ্রেমী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হামিদুল হক বুলবুল, কবি ও গীতিকার এম এ আকবর এবং কবি-সাংবাদিক কোহিনুর আলম ও মো. জুনাইদুল হক (মারুফ) প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শৈশবে পিতৃবিয়োগের পর দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী নিজ যোগ্যতা ও প্রতিভার মাধ্যমে শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তাঁর জীবনসংগ্রাম, সাহিত্যসাধনা ও দেশপ্রেমের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ১৯৬৮ সালে ময়মনসিংহের প্রগতিশীল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহল থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘লোকসাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে পাকিস্তানি শাসনামলে সরকারের দেওয়া ‘তমঘা-ই-খিদমত’ উপাধি প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে তিনি দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন বলেও আলোচনায় তুলে ধরা হয়।
লোকসাহিত্যের চর্চা, প্রতিবাদী চেতনা ও দেশপ্রেমের প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, কেন্দুয়ায় সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ ধরনের আলোচনা সভার আয়োজন সম্ভবত প্রথম। এ আয়োজন স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুণীজনদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও গীতিকবি মো. আব্দুল হাই সেলিম। এ সময় স্থানীয় কবি, শিল্পী, গীতিকার, নাট্যকার, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মোহাম্মাদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী ১৯০১ সালের ২২ অক্টোবর তৎকালীন কেন্দুয়া উপজেলার অন্তর্গত বর্তমান নেত্রকোণা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের কাসিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
মন্তব্য করুন