এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
পরীক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা বোর্ডগুলোর যৌথ ওয়েবসাইট eduboardresults.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd থেকে ফল দেখতে পারবে। পাশাপাশি নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল ও মার্কশিট ডাউনলোড করা যাবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বোর্ডের ওয়েবসাইটের ‘রেজাল্ট’ কর্নারে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে পুরো ফলাফলের শিট ডাউনলোড করতে পারবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও সরাসরি ফল সংগ্রহ করতে পারবে।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানা যাবে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে:
HSC <বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর> <রোল নম্বর> 2026 এরপর বার্তাটি পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।
উদাহরণ: ঢাকা বোর্ডের কোনো পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর ১২৩৪৫৬ হলে লিখতে হবে HSC Dha 123456 2026 এবং পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।
শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা পত্রিকা অফিস থেকে সরাসরি কোনো ফলাফল বিতরণ করা হবে না।
প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীরা উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগামী ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। পুনর্নিরীক্ষণের নিয়মাবলি ও ফি জমা দেওয়ার পদ্ধতি শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়। সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৩৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এ ছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২, ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
মন্তব্য করুন