নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পারিবারিক বিরোধ ও মাদক কারবারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে সাদ্দাম হোসেন (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের খাতে সালেঙ্গা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সাদ্দাম ওই গ্রামের আবুল হাশিমের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকার জামাল মিয়ার সঙ্গে হক্কুন নামে এক ব্যক্তির পরিবারের বিরোধ চলছিল। কিছুদিন আগে জামাল মিয়ার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে নিয়ে হক্কুনের ছেলে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় জামাল মিয়া মামলা করলে পুলিশ পরে ওই মেয়েকে উদ্ধার করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও জোরালো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক বিরোধের পাশাপাশি এলাকায় মাদক কারবার নিয়ে অভিযোগ ও উত্তেজনা ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে চাঁন মিয়া ও হক্কুনের পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে সাদ্দাম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে আরও তিনজন আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, খাতে সালেঙ্গা গ্রামের জামাল মিয়া, চাঁন মিয়া ও নিহত সাদ্দাম একটি মাদকবিরোধী কমিটির সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে হক্কুনের বিরুদ্ধে গাঁজার কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহ আগে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি এলাকায় ফেরেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এমএমএস মাটি জানান, সাদ্দামকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে জানান, ছেলে-মেয়েসংক্রান্ত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সংঘর্ষে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ওসি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শনিবার সকালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। দাফন শেষে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন