নেত্রকোণার সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে একের পর এক জব্দ করা হচ্ছে ভারতীয় পণ্য। তবে সর্বশেষ চারটি অভিযানের বিষয়ে বিজিবির দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কাউকে আটকের তথ্য উল্লেখ নেই। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এসব পণ্য উদ্ধারের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—পণ্যগুলো কীভাবে সেখানে পৌঁছাচ্ছে, আর এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা কোথায়?
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ও শনিবার (৩১ অক্টোবর) নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) পরিচালিত চারটি পৃথক অভিযানে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩২২ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৫০৭ পিস কসমেটিকস, আটটি কম্বল, ৭৯ কেজি জিরা ও ৯০ কেজি চিনি।
বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরুয়াকোনা বিওপির টহল দল সীমান্ত পিলার ১১৮১ এমপি থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কুয়ারপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮১ হাজার ৩৭২ টাকা মূল্যের ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ করে।
একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে মাধুপাড়া বিওপির টহল দল সীমান্ত পিলার ১১৪৬ এমপি থেকে প্রায় ২০০ গজ ভেতরে গাছুয়াপাড়া এলাকায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের আটটি ভারতীয় কম্বল জব্দ করে।
শনিবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে বিজয়পুর বিওপির টহল দল সীমান্ত পিলার ১১৫১ এমপি থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কমলাবাড়ী এলাকায় ১ লাখ ৪৫০ টাকা মূল্যের ৭৯ কেজি ভারতীয় জিরা ও ৩৫৯ পিস কসমেটিকস জব্দ করে।
এ ছাড়া শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ভবানীপুর বিওপির টহল দল সীমান্ত পিলার ১১৫৪ এমপি থেকে প্রায় ৪০০ গজ ভেতরে নয়াপাড়া এলাকায় ১৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৯০ কেজি ভারতীয় চিনি জব্দ করে।
বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল তৌহিদুল বারী, পিএসসি স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
চারটি অভিযানের প্রতিটিতেই পণ্যগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। জব্দ করা পণ্য নেত্রকোনা কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
তবে এসব পণ্য সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে পণ্য জব্দের পাশাপাশি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন