Author
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

৪৫ বছর পর মিলল মোজাফফরের ফোনে জিয়া হত্যার নতুন তথ্য

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করে তিনি জানান, এবার অনেক অমীমাংসিত রহস্যের সুরাহা হবে। আর এসব ঘটনায় তাদের পথ দেখাচ্ছে মোজাফফরের ফোন।

রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গত ১৫ জুলাই রাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন।

ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান হত্যার সময় তার কাছেই উপস্থিত ছিলেন মোজাফফর। ঘটনার পর ওই কক্ষে নথিপত্র তল্লাশি এবং মরদেহ সরানোর কাজে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিছু অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা জানতে অনুসন্ধান চলছে। খোঁজা হচ্ছে ডিজিটাল এভিডেন্সও। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে নতুন কিছু তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ প্রসিকিউটর।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুটা নিয়ে কিন্তু এখনো অনেক রহস্য রয়েছে। সে রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে মোজাফফর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কারণ, তার সঙ্গে দেশের ভেতর এবং দেশের বাইরের বেশ কিছু লোকের যোগাযোগ আমরা পেয়েছি। তারা আসলে কেউ রাষ্ট্রীয় কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, কেনইবা এতদিন পর মোজাফফরের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন এবং কীভাবে মোজাফফর বাংলাদেশে প্রবেশ করল, কোন কারণে তিনি প্রবেশ করেছেন, কার পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি থেকেছেন, কার ছত্রচ্ছায়ায় তিনি ব্যাংকে বিভিন্ন লেনদেন করেছেন সবকিছুই আমরা তদন্তের আওতায় আনছি।

জিয়াউর রহমান খুন হওয়ার পর সেনানিবাসে ফিরে আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে দৃশ্যমান উচ্ছ্বাস ছিল। সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলেন মেজর জেনারেল মঞ্জুর। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে দিয়েছিল, সে প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর বলেন, কেন তৎকালীন প্রশাসক তাকে সেনা হেফাজতে নিয়েছিলেন, কোন আইনের বলে যেহেতু এটা একটি সিভিল হত্যাকাণ্ড, সিভিল এলাকায় মৃত্যু সংঘটিত হয়েছে পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন সেনা কর্মকর্তাকে কারা নিয়ে গেল এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর খবর সেখানে কীভাবে নিশ্চিত করা হলো, তার পোস্টমর্টেম কে করেছিলেন এবং সেখানে যে গুলি করা হয়েছিল, সেই তথ্য থাকলেও কমিশন তা নির্ণয় করতে পারেনি। আসলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কে গুলি করেছিল এবং মঞ্জুর কীভাবে নিহত হয়েছিলেন, সে বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত।

তিনি বলেন, তবে আশা করি, সেই সময়কার জীবিত যেসব সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন অথবা তার ইমিডিয়েট জুনিয়ররা যারা রয়েছেন, সেই সঙ্গে গোয়েন্দা ও অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে রিপোর্টগুলো রয়েছে সবকিছুর সমন্বয়ে আমরা হয়তো এই মৃত্যুর কারণ কী ছিল, তা বের করতে পারব। এই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা কী চেয়েছিল, সেটিও তদন্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রেসিডেন্টের পক্ষে একটি সিক্রেট পেপার তারা খোঁজার চেষ্টা করেছিল এ মর্মে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। সেই সিক্রেট পেপারটি আসলে কী এবং তাকে হত্যা করার পর সে বিষয়টি নিয়ে কেন তাদের এত আগ্রহ ছিল, সেটিও আমরা তদন্ত করছি। হত্যাকাণ্ডে লেফটেন্যান্ট মোসলেহ উদ্দিন, মেজর ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মো. মুনির এবং ক্যাপ্টেন মো. ইলিয়াসের সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Facebook Comments Box
১ম লাইন রঙ
২য় লাইন রঙ
ফন্ট সাইজ (65px)

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জিসিসি শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা, মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর

মির্জা আব্বাস সংসদে এলেন হুইলচেয়ারে, দিলেন আবেগঘন বক্তৃতা

ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে প্রেসক্লাবে বৃদ্ধা মা

কটিয়াদীর দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে জলাবদ্ধতা নিরসনে এমপির চিঠি

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য দেড় কোটি টাকার স্কুল ভবন ৬ বছরেও ব্যবহৃত হয়নি

কলমাকান্দায় আগুনে পুড়ল ছয় দোকান

মোহনগঞ্জ পাবলিক হাই স্কুলে এডহক কমিটির সভাপতিকে বরণ

মোহনগঞ্জে চিকাডুবি হাওরে বাঁধের ব্লক নিয়ে তোলপাড়

কেন্দুয়ায় ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময়

১০

গফরগাঁওয়ে আগুনে চার দোকান পুড়ে ছাই

১১

পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে কুপিয়ে নিজের গলা কেটেছেন এক বৃদ্ধ

১২

ঝিনাইগাতীতে সিসি সড়ক নির্মাণে সীমান্তবাসীর স্বস্তি

১৩

কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

১৪

গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসায় পরিবর্তনের নির্দেশ আদালতের, কারণ কী

১৫

সপ্তাহে ২ দিন ছুটিসহ ওয়ার্ল্ড ভিশনে চাকরি

১৬

কটিয়াদীতে আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬ নেতাকর্মী গ্রেফতার

১৭

রৌহাডুবি বিলে স্নিগ্ধতা ছড়াচ্ছে

১৮

প্রতিনিয়ত ধরা পড়ছে চোরাচালান ধরাছোঁয়ার বাইরে চক্রের সদস্যরা

১৯

মমেক হাসপাতাল ।। লিফট অচল রেখে কোটি টাকা আত্মসাৎ, রোগীদের ভোগান্তি

২০
শিরোনামঃ
জিসিসি শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা, মানবসম্পদ উন্নয়নে জোরমির্জা আব্বাস সংসদে এলেন হুইলচেয়ারে, দিলেন আবেগঘন বক্তৃতাছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে প্রেসক্লাবে বৃদ্ধা মাকটিয়াদীর দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে জলাবদ্ধতা নিরসনে এমপির চিঠিদৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য দেড় কোটি টাকার স্কুল ভবন ৬ বছরেও ব্যবহৃত হয়নিকলমাকান্দায় আগুনে পুড়ল ছয় দোকানমোহনগঞ্জ পাবলিক হাই স্কুলে এডহক কমিটির সভাপতিকে বরণমোহনগঞ্জে চিকাডুবি হাওরে বাঁধের ব্লক নিয়ে তোলপাড়কেন্দুয়ায় ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকেন্দুয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময়