অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজারে প্রতিযোগীদের জন্য সুযোগ বাড়াতে গুগলের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসার কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক নিয়মে পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। তবে গুগলের বিশাল বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসা ভেঙে বিক্রি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় জেলা আদালতের বিচারক লিওনি এম. ব্রিংকেমা এই আদেশ দেন। বিজ্ঞাপন প্রযুক্তির বাজারে বেআইনিভাবে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগে মার্কিন বিচার বিভাগের করা মামলার রায়ে এই নির্দেশ এসেছে।
অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজারে গুগলের আধিপত্য নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আসছে। এ ক্ষেত্রে দুটি মামলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সালে করা একটি মামলায় গুগলের অনলাইন সার্চ ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে ২০২৩ সালে দায়ের করা মামলাটি সরাসরি গুগলের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে।
সরকারের অভিযোগ, গুগল বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজারে বেআইনিভাবে একচেটিয়া অবস্থান তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের একটি পৃথক রায়ে আদালত গুগলের সার্চ ব্যবসাকে অবৈধ একচেটিয়া ব্যবসা হিসেবে চিহ্নিত করেন। সেখানে সার্চ-ভিত্তিক বিজ্ঞাপন ব্যবসার বিষয়টিও উঠে আসে। আদালতের মতে, নিজেদের বাজারক্ষমতা কাজে লাগিয়ে গুগল সার্চ ও সার্চ বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে আধিপত্য বজায় রেখেছে।
গুগলের ব্যবসায়িক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য পরবর্তী সময়ে মার্কিন বিচার বিভাগ বেশ কিছু প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে ক্রোম ব্রাউজার ও অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমকে গুগলের মূল ব্যবসা থেকে আলাদা করার প্রস্তাবও ছিল।
তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিচারক অমিত মেহতা এসব প্রস্তাবের বড় অংশ প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে ক্রোম ও অ্যান্ড্রয়েড গুগলের অধীনেই থেকে যায়। অবশ্য বিভিন্ন ডিভাইসে গুগল সার্চকে ডিফল্ট হিসেবে রাখার জন্য অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একচেটিয়া চুক্তি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু সার্চ-সংক্রান্ত তথ্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে ভাগ করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
এবার বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসার ক্ষেত্রেও গুগলকে একই ধরনের প্রতিযোগিতাবান্ধব পরিবর্তন আনতে বলা হয়েছে। বিচারক ব্রিংকেমার নির্দেশ অনুযায়ী, গুগলকে বিজ্ঞাপন ব্যবসা বিক্রি করতে হবে না। তবে বাজারে প্রতিযোগীদের জন্য আরও সমান সুযোগ তৈরি হয়, এমনভাবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক নিয়ম ও কার্যক্রম বদলাতে হবে।
আদালতের বিস্তারিত লিখিত রায় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আগামী ১৪ দিন এটি গোপন রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে মামলার পক্ষগুলো রায়ে থাকা সংবেদনশীল তথ্য চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় অংশ গোপন করার কাজ করবে। এরপর আদালতের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে।
গুগলও এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের জন্য তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক বলে মনে করছে। প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রকবিষয়ক বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লি-অ্যান মুলহল্যান্ড জানান, ছোট ব্যবসাগুলোকে নতুন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করে এমন প্রযুক্তি ভেঙে দেওয়ার সরকারি প্রস্তাব আদালত প্রত্যাখ্যান করায় তারা সন্তুষ্ট।
অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজারের কাঠামো অত্যন্ত জটিল। এই বাজারে গুগলের প্রভাব বিস্তারের পেছনে প্রতিষ্ঠানটির জনপ্রিয় সার্চ সেবাও বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হয়।
মার্কিন সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, গুগল বিভিন্ন ডিভাইস নির্মাতার সঙ্গে এমন চুক্তি করেছিল, যার ফলে বিপুলসংখ্যক স্মার্টফোনে গুগল সার্চ আগে থেকেই ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে নির্ধারিত থাকত।
এ ছাড়া মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গেও রাজস্ব ভাগাভাগির চুক্তি ছিল গুগলের। এসব চুক্তির আওতায় গুগল সার্চকে ডিফল্ট হিসেবে রাখার বিনিময়ে অপারেটররা বিজ্ঞাপন থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ পেত।
সরকারের দাবি, এই ধরনের চুক্তির মাধ্যমে গুগল শুধু সার্চ ব্যবসায় নয়, বিজ্ঞাপন ব্যবসাতেও নিজেদের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করেছে।
মন্তব্য করুন