Author
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

পৌরসভার জমি ইউনিয়নে দেখিয়ে এক দলিলেই ২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি

ময়মনসিংহের নান্দাইল সাব রেজিস্ট্রি অফিসে পৌরসভার অধীনে থাকা জমি ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে দেখিয়ে এক দলিলেই ২ লাখ টাকা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তালিকাভুক্ত দলিল লেখক আবু সাদেক (সনদ নম্বর ৫১১৩) ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভুয়া তথ্য দিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, গত ৪ জুন নান্দাইল সাবরেজিস্ট্রি অফিসে একটি জমি বিক্রির দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। দলিলের তথ্য অনুযায়ী, জমির ক্রেতা আউয়াল হোসেন গং এবং বিক্রেতা ইছাক মাহমুদ গং।

নান্দাইল বালিয়াপাড়া মৌজার সাবেক ২৩৩০ এবং হাল ১০০৯৮ দাগের ২১ শতাংশ জমির বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা আট লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

আইন অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ের তুলনায় পৌরসভার ভেতরের জমির সরকারি মূল্য এবং দলিল সম্পাদনের আনুষঙ্গিক সরকারি চার্জ ও ট্যাক্স অনেক বেশি।

সাবরেজিস্ট্রার অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্রি হওয়া জমিটি নান্দাইল পৌরসভার আওতাভুক্ত হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী এর উৎসে কর আসার কথা ছিল দুই লাখ ১০ হাজার টাকা।

সাবরেজিস্ট্রারের অভিযোগ, দলিল লেখক আবু সাদেক বেশি মুনাফা ও অবৈধ সুবিধার উদ্দেশ্যে জমির প্রকৃত অবস্থান গোপন করেন।

তিনি কৌশলে পৌরসভার দামি জমিকে ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত এলাকা হিসেবে দেখিয়ে দলিল সম্পাদন করেন। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ের কম হারের কর সুবিধা নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ৯০০ টাকা।

সূত্রের দাবি, এর মাধ্যমে সরকারের সরাসরি এক লাখ ৯২ হাজার ১০০ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। পৌরসভার জমিকে ইউনিয়ন পরিষদের দেখিয়ে এভাবে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জমি বিক্রেতা ইছহাক মাহমুদ স্বীকার করেন তার বিক্রি করা জমি পৌরসভার মধ্যে। তবে দলিল লেখক কিভাবে দলিল সম্পাদন করেছেন- তা তার জানা নেই। এটা তার (দলিল লেখক) ব্যাপার।

অন্যদিকে, জমির ক্রেতা আব্দুল আউয়ালের দাবি, তিনি বাড়িতে কম থাকেন। ব্যবসাসংক্রান্ত কারণে তিনি জেলা শহর ময়মনসিংহে বসবাস করেন।

তিনি বলেন, বাড়ির পাশে জমি কিনতে চাইলে বিক্রেতার সঙ্গে দরদাম ঠিক করার পর দলিল সম্পাদন হয়। কিন্তু দলিল লেখক কিভাবে করেছেন, তা তার জানা নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দলিল লেখক আবু সাদেকের জানান, ‘নতুন গেজেটে মনে হয় ওই জমি পৌরসভার বাইরে ছিল। তাই না দেখেই দলিল ইউনিয়ন ধরে সম্পাদন করেছি। এখন জানতে পেরেছি এই জমি পৌরসভার। এ অবস্থায় সংশোধনের ব্যবস্থা করব।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তখনকার সাবরেজিস্ট্রার শেখ আবদুস সামাদ আজাদ বলেন, ‘আমি মূলত দলিলের দাগ, খতিয়ান, মৌজার নাম এবং দলিল লেখকের (মুহুরি) বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে দলিল সম্পাদন করি।

তিনি (দলিল লেখক) গাদ্দারি করেছেন। বিশেষ করে তিনি ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ২৭ ধারা অনুযায়ী সব কাজ সম্পাদন করেন।

আবদুস সামাদ আরো বলেন, ‘যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তাই জেলা রেজিস্ট্রার বিষয়টি দেখবেন।’

Facebook Comments Box
১ম লাইন রঙ
২য় লাইন রঙ
ফন্ট সাইজ (65px)

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ময়মনসিংহ সীমান্তে বন্য হাতির তাণ্ডবে ধানক্ষেত বিনষ্ট

নকলায় পাখি শিকারের সরঞ্জামসহ ১০ বক উদ্ধার

শেরপুরে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা

ঝিনাইগাতীতে মাহিন্দ্র উল্টে চালক নিহত

শেরপুরে আগামী তিন মাসের সারের মজুদ রয়েছে: জেলা প্রশাসক

শেরপুরে অনিয়মের অভিযোগে ২ সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ধর্ষণ মামলার বাদীকে মারধরের অভিযোগ আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে

নালিতাবাড়ীতে ১৬৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করল বিজিবি

শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় মাদক জব্দ

নেত্রকোনায় বাঁধ থেকে নিয়ে যাওয়া ব্লক ফেরত দিয়ে গেলেন স্থানীয়রা

১০

ডিবি পুলিশের হাতে অষ্টগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার

১১

হারিয়ে যাচ্ছে দেশি মাছ, হুমকির মুখে কিশোরগঞ্জে হাওরাঞ্চলের জীবিকা

১২

কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার বৃত্তি পেলেন ৪৫ শিক্ষার্থী

১৩

কিশোরগঞ্জে দুই সরকারি হাসপাতালে দালাল চক্রের ১৭ সদস্য গ্রেপ্তার

১৪

কোচিং বন্ধ, স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ—কিশোরগঞ্জে প্রশাসনের কঠোর সিদ্ধান্ত

১৫

কিশোরগঞ্জে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

১৬

তাল কুড়াতে গিয়ে নিখোঁজ, ৩ দিন পর পুকুরে মিলল লাশ

১৭

৮ বছরেই কোরআনের হাফেজ ময়মনসিংহের সাজিদ

১৮

চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেনের ড্রোনে প্রাণ হারালেন নান্দাইলের মামুন

১৯

ধোবাউড়ায় আবাসিক এলাকায় স-মিল স্থাপনের অভিযোগ

২০
শিরোনামঃ