Hasan
২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মাস্ক পরে ফুলপুর হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পাঁচ চিকিৎসক অনুপস্থিত

মুখে মাস্ক পরে সকাল ৮টায় আকস্মিক হাজির মন্ত্রী। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ও ওয়ার্ড ঘুরে দেখলেন তিনি। কথা বললেন রোগীদের সঙ্গে। পরিদর্শনে উঠে এলো চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার নানা সংকটের চিত্র। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এসব অনিয়ম দেখতে পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় পাঁচজন চিকিৎসক কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি। উপস্থিতি খাতা যাচাই করে অনুপস্থিতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাহাত চৌধুরীকে কর্মস্থলে পাননি মন্ত্রী। এ সময় তাঁকেসহ চারজনকে সরকারি হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত দেখানো হয়। নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার অভিযোগের বিষয়েও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ, রান্নাঘর, শৌচাগার ও আশপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখেন তিনি। নিচতলার রান্নাঘরের পাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। শৌচাগার ও গোসলখানার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।

হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ আট মাসেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়াকে দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে সরকারি বরাদ্দের টিকা ও ভ্যাকসিন যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে নিচে ফেলে রাখা অবস্থায় দেখতে পান মন্ত্রী। এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সতর্ক করে টিকা ও ভ্যাকসিনের সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে ভর্তি শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় শয্যা ও রেক্সিন চাদরের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় একটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র না থাকায় রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করানোর সমস্যার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে রোগীদের ভিড় লেগেই থাকে। শয্যাসংকটের কারণে অনেক রোগীকে বারান্দা কিংবা সিঁড়ির নিচে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের মধ্যেও চিকিৎসক, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও নার্সদের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার মান, রোগীদের খাবার সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। একসময় সেবার মানে দেশের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর মধ্যে থাকলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আকস্মিক পরিদর্শনে কী ধরনের অনিয়ম পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাঁচজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে আরও কিছু অনিয়ম চোখে পড়েছে। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পরিদর্শনে এসে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে না আসার যে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বিগত সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে।

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫১-তে উন্নীত করা, কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সুবিধা চালু এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পাশাপাশি ইউনিয়ন সদর এলাকায় বহুতল পরিবার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং পুরোনো তিনটি ওয়ার্ডেও পরিবার হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করার কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাধনা ত্রিপুরা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সাদ মাহমুদ জয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Facebook Comments Box
১ম লাইন রঙ
২য় লাইন রঙ
ফন্ট সাইজ (65px)

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুর্গাপুর-শিবগঞ্জবাসীর ভরসা কাঠের সেতু : নির্মান করে দিচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার

১

নেত্রকোণায় ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু, থানায় অভিযোগ

২

কেন্দুয়ায় গণধর্ষণের শিকার তরুণী, আটক তিন

৩

সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জাপান

৪

দেশের বাজারে কমলো সোনার দাম

৫

জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা

৬

এসআরবির অভিযানে শ্রীবরদীতে ভারতীয় প্রসাধনীসহ ভ্যানচালক গ্রেফতার

৭

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের ময়মনসিংহ জেলার নবগঠিত কমিটি

৮

কিশোরগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৫১ পিস ইয়াবাসহ তিনজন আটক

৯

ভৈরবে ট্রেনের ছাদ থেকে ১০ কেজি গাঁজাসহ আটক ২

১০

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১১

কেন্দুয়ায় সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরীর জন্মবার্ষিকী পালিত

১২

বারহাট্টায় অভিযোগের মধ্যেই সার ডিলার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন

১৩

ময়মনসিংহে পুলিশের কাছ থেকে ছাত্রলীগ নেতা ছিনতাই

১৪

নেত্রকোনার সীমান্তে ২ লাখ টাকার রসুন ও কয়লা জব্দ

১৫

দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এক দিনে বা মাসে দূর করা কঠিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১৬

ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১৭

ভালুকায় অপহরণ মামলায় চারজন গ্রেপ্তার

১৮

নালিতাবাড়ীতে জুতার মূল্যছাড় নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

১৯

ঝিনাইগাতী সীমান্তে ভারতীয় মদসহ আটক ২

২০
শিরোনামঃ