কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিয়ের পরদিন স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে নববধূর চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নববধূর স্বামী মতিন মিয়া (৩৬) গত ২ নভেম্বর রাতে ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে ওই নববধূর প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর রাতে পারিবারিকভাবে ভৈরব পৌর শহরের জগন্নাথপুর কান্দাহাটি এলাকার মতিন মিয়ার সঙ্গে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ছনছাড়া এলাকার মৃত ইজ্জত আলীর মেয়ে পাপিয়া খাতুনের (২২) বিয়ে হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পরদিন ২ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ি থেকে চলে যান পাপিয়া। এ সময় তিনি ১ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, ১০ আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল, ২ ভরি ৮ আনা ওজনের আরও এক জোড়া কানের দুল, ১৪ আনা ওজনের তিনটি স্বর্ণের আংটি এবং নগদ ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বামী। সব মিলিয়ে নেওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মতিন মিয়া পৌর শহরের জগন্নাথপুর কান্দাহাটি এলাকার মৃত চুন্নু মিয়ার ছেলে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি আরও বলেন, সন্তানদের বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর বিষয়ে যথাযথ খোঁজখবর নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে পাপিয়ার বোন সুবর্ণা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ভাইয়ের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাপিয়ার অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে বিয়েতে সম্মতি দেওয়া উচিত হয়নি বলে তিনি মনে করেন। এ ঘটনায় পাপিয়া ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে অভিযুক্ত পাপিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন