কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার আবুল কাসেম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবারও এইচএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। একটানা তিন বছর কলেজটি থেকে কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অভিযোগ আছে, পরীক্ষার সময়েই শুধু শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয় এছাড়া আর কোনো অস্তিত্ব থাকে না।
কলেজটি উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় অবস্থিত। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনা শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কলেজটির মানবিক বিভাগ থেকে মোট সাতজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তবে তাদের মধ্য একজনও পাস করেনি।
এর আগে, ২০২৫ সালে ছয়জন এবং ২০২৪ সালে দুইজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করেনি। অর্থাৎ একটানা তিন বছর যাবৎ সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। ২০০৬ সালে পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার পর সর্বশেষ ২০২৩ সালে নয়জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ছয়জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। এরপর আর কোনো শিক্ষার্থী কলেজটি থেকে উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
আবুল কাসেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ও দায়িত্বরত অধ্যক্ষ বিউটি বেগম বলেন, তার স্বামী আবুল কাসেম গ্রামের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার জন্যই পৈতৃক সম্পত্তিতে গড়ে তুলেছিলেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। কলেজটি পাঠদান শুরুর পর থেকে ভালো ফলাফল করে আসলেও এমপিও ভুক্ত না হওয়ার কারণে কোনো স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, তা ছাড়া অস্থায়ীভাবে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন তাদেরকে ঠিকমতো বেতন না দেওয়ায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি। যার ফলে গত কয়েক বছর কলেজের ফলাফল খারাপ হচ্ছে। তবে আগামী বছর থেকে আমরা কলেজের সুনাম ফিরে আনতে শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ফলাফল ভালো করার চেষ্টা করবো।
স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক শরীফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানটির স্কুল ও কলেজ শাখার পৃথক কোড নম্বর ও ইআইআইএন রয়েছে। তিনি স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক। কলেজ শাখায় নিয়োজিত শিক্ষকরা ঠিকমতো বেতন-ভাতা না পাওয়ার কারণেই কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান হতো না। তা ছাড়া কলেজটি গ্রামে হওয়ায় ভালো শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। যার ফলে কম জিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রেজাল্ট খারাপ করছে।
কুলিয়ারচর উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মো. মুসফিকুর রহমান বলেন, টানা তিন বছর ধরে কলেজটিতে কেউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছে না। কলেজটি এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় নেই কোনো স্থায়ী শিক্ষক ও কলেজ ভবন। সারাবছর কলেজে কোনো শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে পাওয়া যায় না। শুধু পরীক্ষার সময় হলেই কোথা থেকে শিক্ষার্থী এনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায় কলেজ কর্তৃপক্ষ। আমরা কলেজটি সম্পর্কে আগেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, এই বছরও ফলাফল প্রকাশের পর জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন