ময়মনসিংহ নগরের মিন্টু কলেজ এলাকায় রেলওয়ের জমির অংশ দখল করে ১৮ তলা এলিট টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে জমি পরিমাপ করে ভবনটির সীমানার মধ্যে রেলওয়ের প্রায় ১৩ ফুট জায়গা পাওয়ার কথা জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবনের অনুমোদিত নকশা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন সরেজমিনে এলিট টাওয়ারের জমি পরিমাপ করেন। এ সময় সড়কসংলগ্ন রেলওয়ের জায়গা ভবনটির সীমানার মধ্যে রয়েছে বলে দেখতে পান তিনি। পরে তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া নির্মাণকাজ চালু রাখলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন এই কর্মকর্তা। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এর আগে বুধবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়ার নেতৃত্বে এলিট টাওয়ারে অভিযান চালানো হয়। রেলওয়ের জমি দখল করে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট ভবন নির্মাণ করছে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, রেলওয়ের জমিতে কোনো ধরনের বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। সরেজমিনে রেলওয়ের জায়গার মধ্যে ভবন নির্মাণের বিষয়টি দেখা গেছে। তাই কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ভবনটির ডেভেলপার ও নগরের মুসলিম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের দাবি, নিয়ম মেনেই ১৮ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। ভবনটিতে ১০৫ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে গণপূর্ত বিভাগ থেকে এলিট টাওয়ারের ১৮ তলা নির্মাণের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়। তবে অনুমোদনের দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
রেলওয়ের জমি ভবনের সীমানার মধ্যে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো এবং ১৮ তলা ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন রেলওয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ার তদন্তের ওপর নির্ভর করছে ভবনটির নির্মাণকাজের ভবিষ্যৎ।
মন্তব্য করুন