দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত দুই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০ শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য স্কলারশিপ ও ফেলোশিপ পেয়েছেন। তাদের কেউ পেয়েছেন সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি, কেউ মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ।
জানা গেছে, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া এসব শিক্ষার্থীর সাফল্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ছয় শিক্ষার্থী ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার গাচন ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পেয়েছেন দুজন। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের ব্রুনেল ইউনিভার্সিটি, জার্মানির জুলিয়াস ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটি অব ভুর্ৎসবুর্গ এবং রাশিয়ার আরইউডিএন ইউনিভার্সিটি ও ন্যাশনাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটি হায়ার স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় শিক্ষার্থীর সুযোগ
ভারতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া ছয় শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের নূর রহমান প্রান্ত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। একই বিভাগের মধুপর্ণা ধরগুপ্ত শ্রেষ্ঠা গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক এবং দ্বীপন চক্রবর্তী মহারাজা সায়াজিরাও ইউনিভার্সিটি অব বরোদায় স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন। তিনজনই ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের (আইসিসিআর) বৃত্তি অর্জন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের অপূর্ব চক্রবর্তী ও পল্লব কুমার বিশ্বাস ভারতের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বসাহিত্য বিষয়ে ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের জন্য ফেলোশিপ পেয়েছেন। অন্যদিকে, ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শর্মিষ্ঠা ভট্টাচার্য মিষ্টু আইসিসিআরের বৃত্তি নিয়ে ভারতের দ্য ইংলিশ অ্যান্ড ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজেস ইউনিভার্সিটিতে চলচ্চিত্র অধ্যয়নে স্নাতকোত্তর করার সুযোগ পেয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা
দক্ষিণ কোরিয়ার গাচন ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ার জন্য ফ্রেশম্যান স্কলারশিপ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী নিজাম উদ্দিন আহমেদ সায়েল ও এস এম নিয়ন।
একই বিভাগ ও শিক্ষাবর্ষের মোমিন খান যুক্তরাজ্যের ব্রুনেল ইউনিভার্সিটিতে ভাইস-চ্যান্সেলর স্কলারশিপ পেয়েছেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে স্নাতক পর্যায় থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন তিনি।
মোমিন খান বলেন, ‘অ্যাকাডেমিক জীবনে আমি পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী ছিলাম। দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই বিদেশে মাস্টার্স করার লক্ষ্য নির্ধারণ করি। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো ইংরেজিভাষী দেশগুলো আমার পছন্দের তালিকায় ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে আইইএলটিএসের প্রস্তুতি নিয়ে সপ্তম সেমিস্টারে পরীক্ষায় অংশ নিই। স্নাতকের ফল প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি নিতে ব্যাপক গবেষণা ও অনুশীলন করি। এ যাত্রায় বিভাগের শিক্ষকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে সহযোগিতা করেছেন।’
এছাড়া জার্মানির জুলিয়াস ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটি অব ভুর্ৎসবুর্গে সম্পূর্ণ অর্থায়িত স্কলারশিপ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদুর রহমান পাভেল। গত সেপ্টেম্বরে বৃত্তি পাওয়ার আগে তিনি আরও তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে পাড়ি জমান তিনি।
রাশিয়ায় দুই শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার সুযোগ
রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। গত ২ অক্টোবর দর্শন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মহিবুল ইসলাম দেশটির আরইউডিএন ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনার জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়িত স্কলারশিপ অর্জন করেন।
অন্যদিকে, লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা ন্যাশনাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটি হায়ার স্কুল অব ইকোনমিকসে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের জন্য ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়েছেন।
সুযোগ থাকলেও প্রস্তুতির অভাব
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন মনে করেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকলেও যথাযথ তথ্য ও প্রস্তুতির অভাবে অনেক শিক্ষার্থী তা কাজে লাগাতে পারেন না।
তিনি বলেন, ‘প্রায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীই বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী, তবে তাদের কেউ যেতে পারেন, কেউ পারেন না। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এগোতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক স্কলারশিপের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে না জানার কারণে অনেকেই সেই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন না।’
উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের শিক্ষার্থীরা অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের চেয়ে বেশি মেধাবী। শুধু তাদের মেধাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।’
মন্তব্য করুন