ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়া শিক্ষার্থীর মরদেহ দুদিন পর ব্রহ্মপুত্র থেকে উদ্ধার

11
মারা যাওয়া শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন
মারা যাওয়া শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওনছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের পাশে ঘুরতে গিয়ে ‘কিশোর’ ছিনতাইকারী দলের কবলে পড়েন আনন্দ মোহন কলেজে পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থী। তাঁদের একজন পালিয়ে ফিরতে পারলেও দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন অপর এক শিক্ষার্থী। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ শহরের জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ভেসে আসে নিখোঁজ ছাত্রের মরদেহ।

পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর নাম নুরুল্লাহ শাওন (২৬)। তিনি ময়মনসিংহ নগরের আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ ঘিরে সহপাঠীদের ভিড়। শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে ময়মনসিংহের জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকায়
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ ঘিরে সহপাঠীদের ভিড়। শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে ময়মনসিংহের জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

পুলিশ ও নিখোঁজ ছাত্রের সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নুরুল্লাহ শাওন ও তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে দুই বন্ধুকে অন্তত সাতজনের একটি কিশোর দল ঘিরে ধরে তাঁদের কাছে যা আছে বের করে দিতে বলে। নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই জানালে এ সময় দুই বন্ধুকেই মারধর করা হয়। একপর্যায়ে নুরুল্লাহ শাওন প্রতিবাদ করলে বেদম মারতে শুরু করে। ওই সময় দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। চারজন পিছু নেয় শাওনের এবং তিনজন পিছু নেয় মঞ্জুরুলের। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে সাঁতরে পার হতে পারলেও নুরুল্লাহ শাওনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীর ধাওয়ায় শিক্ষার্থী নিখোঁজ, ২৬ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি

পরে মঞ্জুরুল তীরে উঠে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বন্ধুদের খবর দিয়ে দলটির ১৫ বছর বয়সী এক সদস্যকে ধরে থানা-পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে ব্যাগ ও শাওনের জুতা পাওয়া যায়। ওই অবস্থায় পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিয়ে নদে সন্ধান চালালেও খোঁজ মেলেনি শাওনের। পরে শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে নৌকার মাঝিরা নদের চরে মরদেহ পেয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।

এ খবরে নিহতের সহপাঠী ও কলেজের বন্ধুরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা ঘটনায় জড়িতের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।

ক্ষোভ জানিয়ে নিহতের বন্ধু শোয়াইব আক্তার বলেন, ‘আমার দুই বন্ধু ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারী কিশোর দলের কবলে পড়ে। একজন সাঁতরে নদ পার হয়ে চলে এলেও শাওনকে পাইনি। আমরা একজনকে ধরে সবার নাম-ঠিকানা পুলিশকে দিলেও পুলিশ কিছু করেনি।’ ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি করেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে শাওনের মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন। সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় তিন-চারজনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগটি পুলিশ সন্ধ্যায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। অভিযুক্তদের সবার বয়স ১৩ থেকে ১৬-এর মধ্যে। এ ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, লাশ ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে একজন গ্রেপ্তার হয়েছে, বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here