অনলাইন ডেস্ক : কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সজল নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিচার সালিশের মাধ্যমে করার আইনগত বৈধতা নেই।
উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের বাগপাড়া গ্রামের একটি জঙ্গলে সম্প্রতি ওই কিশোরীর সঙ্গে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। ঘটনাটি কিশোরীর এক স্বজন দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন সেখানে গিয়ে সজলকে আটক করেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় আধা ঘণ্টা পর সজলের মেয়ের জামাই ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে নিয়ে যান। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুরব্বি ও এলাকাবাসী সালিশে বসেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার অনুষ্ঠিত ওই সালিশে গ্রামের মুরব্বি আনসার আলী সভাপতিত্ব করেন। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য ও ঘটনার বিবরণ পর্যালোচনা করে সালিশকারীরা দাবি করেন, সজল ওই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। তবে এক স্বজন ঘটনাটি দেখে ফেলায় তা সম্ভব হয়নি বলে সালিশে দাবি করা হয়। এরপর তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জরিমানার টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। আগামী মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে ওই টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ ঘটনায় সালিশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জুনায়েদ তুর্য গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি সালিশে উপস্থিত ছিলেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসীকে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কথা বলেছেন। তবে এভাবে সালিশ করার বিষয়টি তাঁর ভালো লাগেনি বলেও জানান তিনি।
জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁকে বিষয়টি কেউ জানায়নি। ফেসবুকে ভিডিও দেখে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন। বর্তমান ওয়ার্ড সদস্য ও এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে সালিশ করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার বা ইউপি সদস্য কেউ তাঁকে বিষয়টি জানাননি।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান প্রথমে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। পরে রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, রাতেই অভিযুক্তকে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর বাবা প্রায় ১০ বছর আগে এবং মা প্রায় তিন বছর আগে মারা যান। বর্তমানে বাবা-মা হারা ওই কিশোরী বড় বোনের সঙ্গে থাকেন।
|
২৬ অগাস্ট, ২০২৬