ডেস্ক রিপোর্ট : ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের চলমান কার্যক্রম, অগ্রগতি ও সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্বাস্থ্য, কৃষি, সড়ক, নিরাপদ পানি, মৎস্য ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। সভা সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
সভায় ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি, বিভাগের চার জেলার জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি জানান, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে ৯৮ দশমিক ৪০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। হাম প্রতিরোধে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম গত ২০ মে শেষ হয়েছে। তবে রুটিন ইপিআইয়ের মাধ্যমে হামের টিকাদান অব্যাহত রয়েছে। যেসব এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি, সেখানে মপ-আপ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমও চলছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি জানান, আমন মৌসুমে বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে কোথাও বীজের সংকট নেই।
তিনি আরও জানান, ফসল উৎপাদনে জৈব সার, বিশেষ করে ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি, মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ফসলে এর ব্যবহার এবং উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম চলছে। জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়াতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রচার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর অবৈধভাবে স্থাপিত দোকানপাট উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পকারখানার বর্জ্য যাতে মহাসড়কে ফেলা না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ জেলায় ২১ হাজার ৮৪টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে এবং ২৫০টির কাজ চলমান রয়েছে। নেত্রকোনায় ১৩ হাজার ৮৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে, চলমান রয়েছে ৯১১টি। জামালপুরে ৩ হাজার ৩১১টি স্থাপন করা হয়েছে এবং ২৯০টির কাজ চলমান। শেরপুরে পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে ৭ হাজার ৪৮০টি।
সভায় আরও জানানো হয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভেজাল মৎস্য খাবার এবং নিষিদ্ধ মাছের উৎপাদন ও সরবরাহ রোধে মৎস্য অধিদপ্তর গত জুন ও জুলাই মাসে মোট ২০টি খাদ্য ও পোনা নমুনা পরীক্ষা করেছে।
এ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে রেশিও অনুযায়ী লোড ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, সরকারের সফটওয়্যার ও ডাটাবেজভিত্তিক কার্যক্রমগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে উন্নয়নমূলক কাজগুলো নির্ধারিত সময়ে ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য সবাইকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, সমন্বিতভাবে কাজ করলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন