সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার উচাখিলা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নূর-এ-আলম ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা এলাকার ফজলুল হকের ছেলে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে প্রসিকিউশন দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান। এ সময় ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, নূর-এ-আলমের তিনটি গোডাউনে ইউরিয়া, ডিএপি ও এমওপি সার মজুত পাওয়া যায়। এর মধ্যে ইউরিয়ার ৩৯১ বস্তা, ডিএপির ১৬০ বস্তা এবং এমওপির ৮৫ বস্তা ছিল। প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি হিসেবে মোট ৬৩৬ বস্তা বা ৩১ দশমিক ৮ টন সার মজুত করা হয়েছিল।

নূর-এ-আলমের খুচরা সার বিক্রির বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। তবে অভিযানের সময় তার প্রতিষ্ঠানে সার বিক্রির ক্যাশ মেমো পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মজুতের হিসাব সংবলিত রেজিস্টারও সংরক্ষণ করা হয়নি। এসব অনিয়মের কারণে সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬-এর ১২ ধারায় তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই অভিযানে শ্যামল চন্দ্র সাহাকে একই আইনে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, নূর-এ-আলমের দোকানে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছিল।
ইউএনও সানজিদা রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে মজুত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বিধি অনুযায়ী তাদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যাতে বেশি দামে বিক্রি করা না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। জব্দ করা সার অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে। অবৈধভাবে সার মজুত বা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন