সংঘাত-সংবেদনশীলতা ও সামাজিক পরিবর্তনের রূপান্তরের বার্তা নিয়ে শেরপুরে রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস।
এ উপলক্ষে ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া আদর্শগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন কালিস্থান মাঠে এক আলোচনা, আদিবাসী ধাত্রী সম্মাণনা, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। নাগরিক প্ল্যাটফরম জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইইডি এবং কোচ, হাজং, বর্মন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় এসব অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আদিবাসী সমাজের প্রাচীণ ভেষজ চিকিৎসা, প্রাকৃতিক নিয়ম এবং বংশানুক্রমিক মাতৃত্বকালীণ জ্ঞানকে বাঁচিয়ে রাখাতে আদিবাসী নারীদের ঐতিহ্যগত স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের জন্য প্রবীণ ৪ জন আদিবাসী ধাত্রীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাণনাপ্রাপ্তরা হলেন-রাংটিয়া গ্রামের রায়তী কোচ (৭৭), নয়া রাংটিয়া গ্রামের বাকাঈশ্বরী কোচ (৬৫), নওকুচি গ্রামের নিধনী হাজং (৮১) এবং জারুলতলা গ্রামের ক্লারা সাংমা (৫২)।
অনুষ্ঠানে কোচ সম্প্রদায়ের তরুণ ও যুবাদের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কোচ ও হাজং জনগোষ্ঠির ক্ষুদে শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী পোষাকে নাচ ও গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ফুটবল খেলার উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। পরে এক আলোচনা সভা ও শুভেচ্ছা উপহার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর জেলা কোচ সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতির সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জনউদ্যোগ আহবায়ক শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কাদির, কোচ কালচারাল ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক যুগল কিশোর কোচ, আদিবাসী নেতা নীলমাধব হাজং, অরুণ কুমার কোচ, রুয়েল কোচ, সুমন্ত বর্মন, মিঠুন কোচ প্রমুখ।
আদিবাসী নেতা সুমন্ত বর্মন বলেন, আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করা হলেও বাংলাদেশের কোন সরকারই সরকারীভাবে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়নি। সরকার আসে সরকার যায় আমাদের আদিবাসীদের শুধু নাম বদলায়। এক সরকার নাম দিয়েছে উপজাতি, আরেক সরকার নাম দিয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। নাম বদলে দিলেও আমাদের আদিবাসীদের প্রত্যাশা পুরন করেনি কোন সরকার। আমরা আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি চাই।
ঝিনাইগাতী উপজেলা হাজং সমাজ সংগঠনের সভাপতি নীলমাধব হাজং বলেন, সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে কোচ, হাজং, বর্মন, ডালু সহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠির নিজস্ব ভাষা। ভাষার সাথে সাথে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি। এই এলাকার আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকারীভাবে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী। এজন্য শেরপুর জেলায় একটি নৃ-জনগোষ্ঠিদের কালচারাল একাডেমী স্থাপন করা একান্ত প্রয়োজন।
জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটির আহবায়ক শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কাগজ আছে বগলে জমি নাই দখলে। আদিবাসীরা জমি সংক্রান্ত জটিলতায় জর্জরিত। এটি নিরসনে সরকার আন্তরিক হলে হয়তো আদিবাসীরা আরেকটু ভালো থাকতো। নতুন সরকারের কাছে দাবি সমতলের আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা সমাধানে পৃথক একটি ভুমি কমিশন গঠন করা হোক। অনুষ্ঠানে কোচ, হাজং, বর্মন, গারো, হদি সহ স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠির শতাধিক নারী-পুরুষ ছাড়াও শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সুুধীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
মন্তব্য করুন