‘চলো যাই যুদ্ধে-মাদকের বিরুদ্ধে’ প্রতিপাদ্যে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মাদক ও বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে লালকার্ড প্রদর্শন করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে দুর্গাপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এসবি রক্তদান সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত লালকার্ড প্রদর্শন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত। সংগঠনের সভাপতি সৈকত সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিপ্লব বিকাশ পাল চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার তানজিরুল ইসলাম রায়হান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বজলুর রহমান আনছারী, সমাজসেবা কর্মকর্তা তারেক হোসাইন, দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি দিলোয়ার হোসেন তালুকদার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ ও একাডেমিক সুপারভাইজার নাসির উদ্দিন।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা মাদক ও বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে প্রতীকী লালকার্ড প্রদর্শন করে। একই সঙ্গে মাদক গ্রহণ না করা, বাল্যবিয়েকে সমর্থন না করা এবং সমাজের নানা অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শপথ নেয় তারা।
এসবি রক্তদান সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈকত সরকার বলেন, ‘মাদক ও বাল্যবিবাহ একটি জাতিকে রুগ্ন ও মেধাশূন্য করে দেয়। শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। এ লক্ষ্যেই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেমিনার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে। মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও আহমেদ সাদাত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা যারা আজ শিশু, আগামী দিনে তোমরাই দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই এখন থেকেই মাদক, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও দুর্নীতিকে লালকার্ড দেখিয়ে দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সত্যবাদিতা, দেশপ্রেম ও মানবতাকে সবুজকার্ড দেখিয়ে গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’ এ বিষয়ে সন্তানদের সহযোগিতা করতে অভিভাবকদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি শিক্ষামূলক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মাদক ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন