ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা কলেজ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে ১ জন এবং মানবিক বিভাগের ৩ জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাশ করতে পারেনি। শতভাগ ফেলের তালিকায় ময়মনসিংহের ৪টি প্রতিষ্ঠানের একটি মুক্তাগাছা কলেজ।
তবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বিষয়টি মানতে নারাজ। তাদের দাবি, গত দুই বছর যাবত প্রতিষ্ঠানটিতে স্কুল শাখা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এমনকি দুই বছর ধরে এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেনি। তথ্যগত ভুলে এমনটি হতে পারে?
ময়মনসিংহ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের নথিপত্রে ৪টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি। তার মধ্যে রয়েছে মুক্তাগাছা উপজেলার মুক্তাগাছা কলেজের নাম।
বোর্ডের রেজাল্ট শিট অনুযায়ী একাধিক গণমাধ্যমে শতভাগ ফেলের তালিকায় মুক্তাগাছা কলেজের নাম উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে।
বিষয়টি জানতে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ওই কলেজের ইংরেজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সুজল কুমারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। শতভাগ ফেল বিষয়টি সঠিক নয় দাবি করে তিনি যুগান্তরকে জানান, দুই বছর যাবত মুক্তাগাছা কলেজ থেকে মাধ্যমিক শাখা বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং ডিগ্রি বিভাগ চালু করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ সাল থেকে কোনো পরীক্ষার্থীই এই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসিতে অংশগ্রহণ করেনি; কিন্তু কাগজ-কলমে শতভাগ ফেল দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে তথ্যগত ভুলের কারণে এমনকি ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, যেখানে পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থীই অংশগ্রহণ করল না, সেখানে পাশ-ফেলের প্রশ্ন এলো কিভাবে মাথায় ধরে না। তবে গোপনে কলেজ কোড ব্যবহার করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিচ্ছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অকৃতকার্য ৪ জনের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, আমি মুক্তাগাছা কলেজের নিজস্ব শিক্ষার্থী নই। ওই প্রতিষ্ঠানের কোড ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে ফর্ম পূরণ করে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। ২০২৪ সালে তিন বিষয়ে ফেল করি, ২৫ সালে একটি বিষয়ে এবং এবারও ওই একই বিষয়ে ফেল করেছি। যেহেতু প্রতিষ্ঠানের কোড নম্বর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে এর দায় প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায়।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জাকিয়া আক্তার জানান, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলে পাশ ফেলের প্রশ্নই আসে না। ওই প্রতিষ্ঠানের কোডের অধীনে ৪ জন পরীক্ষার্থী এবারের এসএসসিতে অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় শতভাগ ফেলের তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির নাম রয়েছে।
মন্তব্য করুন