রিকশা চালানো কিংবা অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে কোনোমতে স্ত্রী ও সাত সন্তান নিয়ে সংসার চালাতেন আব্দুল হালিম। নিজের জমি না থাকায় অন্যের জায়গায় তৈরি করা জীর্ণ ঝুপড়িঘরেই কাটছিল তাঁর পরিবারের দিন। কাজ থাকলে খাবার জুটত, না থাকলে সংসারে দেখা দিত অভাব। সেই পরিবারটির জীবনে এখন এসেছে স্বস্তির নতুন বার্তা।

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কড়ইগড়া কালিকাবাড়ির বাসিন্দা আব্দুল হালিমের দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল। সরকারি বিশেষ বরাদ্দে সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে হালিমের পরিবারের জন্য একটি টিনশেড পাকা ঘর, খাট, তোশক ও চাদর দেওয়া হয়।

এর পাশাপাশি পরিবারের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি গরু এবং তাঁর স্ত্রীর কর্মসংস্থানের জন্য একটি সেলাই মেশিনও দেওয়া হয়েছে।

এ সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশারফ হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব জমি না থাকায় নতুন ঘর পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল হালিমের পরিবারের। পরে তাঁর মামাতো ভাই আবদুর রশিদ দুই শতক জমি হালিমকে উপহার দেন। সেই জমিতেই নির্মাণ করা হয়েছে পরিবারের নতুন আশ্রয়স্থল।

আব্দুল হালিমের পরিবারে রয়েছে তাঁর স্ত্রী, তিন ছেলে ও চার মেয়ে। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের মধ্যে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি।

নতুন ঘর ও সহায়তা পেয়ে আব্দুল হালিম গণমাধ্যমকে বলেন, নিজের জায়গা-জমি না থাকায় এতদিন অন্যের জায়গায় ঝুপড়িঘরে থাকতে হয়েছে। এখন নিজের ঘর পেয়েছেন। পাশাপাশি গরু ও সেলাই মেশিন পাওয়ায় পরিবারের আর্থিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হবে বলে তিনি আশা করছেন।

হালিমের মেয়ে ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে বলেন, আগে বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ত। নতুন ঘর পাওয়ায় তাঁদের কষ্ট অনেকটাই কমবে। মায়ের জন্য সেলাই মেশিন পাওয়ায় পরিবারের আয়েও সহায়তা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, আব্দুল হালিমের মতো অসহায় মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তাঁদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন ঘর পাওয়ায় পরিবারটি এখন স্বস্তির পাশাপাশি নতুন করে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে।

সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল দৈনিক সবুজকে বলেন, আব্দুল হালিমের পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্দশার কথা জানতে পেরে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের বিশেষ বরাদ্দের ঘরটি তাঁদের হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি গরু ও সেলাই মেশিন দেওয়ার লক্ষ্য হলো পরিবারটিকে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া নয়, বরং তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

তিনি সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।