শেরপুরের নকলায় ছোট শিশুদের ঝগড়া থামাতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে হুজুরা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় নকলা পৌরসভার ৮ নম্বর কায়দা ওয়ার্ডের কায়দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হুজুরা বেগম ওই গ্রামের মাইন উদ্দিনের স্ত্রী। আহতরা হলেন কামরুল হাসান (১৫), হাসু মিয়া (৪৫), সোবহান মিয়া (৩৫) ও মাইন উদ্দিন (৬৩)। তাদের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যায় দুই শিশুর খেলাধুলা নিয়ে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে তাদের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এ সময় ঝগড়া থামাতে এগিয়ে যান হুজুরা বেগম। একপর্যায়ে ধান শুকানোর কাজে ব্যবহৃত পাটনার আঘাতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবিবুর রহমান জানান, হুজুরা বেগমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিজন আহমেদ বলেন, ‘ধান শুকানোর কাজে ব্যবহৃত পাটনার আঘাতে হুজুরা বেগম মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথে তার মৃত্যু হয়।’
প্রতিবেশী জাহানারা বেগম বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে ছোট দুই শিশু খেলাধুলা নিয়ে ঝগড়া করছিল। তাদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে বড়রাও বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। পরে ঝগড়া থামাতে গিয়ে হুজুরা বেগম মাথায় আঘাত পান।’
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, ‘নকলা পৌরসভার কায়দা গ্রামে ছোট শিশুদের ঝগড়া থামাতে গিয়ে হুজুরা বেগম নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করেছি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
মন্তব্য করুন