Tawfik
৩ অক্টোবর ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বন্য প্রাণীর গায়ে কেন মাইক্রোচিপ বসাতে চায় বন বিভাগ

দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অপর্যাপ্ত নজরদারি ও অরক্ষিত সীমানাদেয়ালের সুযোগে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে কয়েক দফায় বন্য প্রাণী পাচারের ঘটনা ঘটেছে। এবার পার্ক থেকে পাচার ঠেকাতে বন্য প্রাণীর গায়ে মাইক্রোচিপ বসাতে চায় বন বিভাগ। এ ছাড়া পাচার হয়ে যাওয়া বন্য প্রাণী শনাক্তে সব বন্য প্রাণীর ডিএনএ প্রোফাইলিংও করতে চায় পার্ক কর্তৃপক্ষ।

বন্য প্রাণীর ডিএনএ প্রোফাইলিং হলো কোনো নির্দিষ্ট প্রাণীর জেনেটিক ছাপ (জিনগত পরিচয়) সংগ্রহ করে রাখা, যাতে পরে প্রয়োজনে সেই প্রাণীটিকে বা তার সঙ্গে রক্তের সম্পর্কযুক্ত অন্য কোনো প্রাণীকে বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত করা যায়, অনেকটা মানুষের ক্ষেত্রে ফরেনসিক ডিএনএ টেস্টের মতো।

মাইক্রোচিপ হলো চালের দানার আকৃতির একটি ইলেকট্রনিক চিপ, যেটাতে একটি মৌলিক নম্বর থাকে। শনাক্তকরণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করলে ওই নম্বর দিয়ে প্রাণীটিকে শনাক্ত করা যায়।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্য প্রাণী হারিয়ে যাওয়া বা পাচারের পর উদ্ধার করা হলে সেগুলো সাফারি পার্কের কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। মাইক্রোচিপ বসলে সেটা নিয়ে আর সংশয় থাকবে না। পাচার ঠেকাতেও সেটি ভূমিকা রাখবে।

দেশে সাফারি পার্কের সংখ্যা দুটি। একটি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক। অন্যটি গাজীপুর সাফারি পার্ক। এটি দেশের সবচেয়ে বড় সাফারি পার্ক। ২০১০ সালে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৩ হাজার ৬৯০ একর বন নিয়ে এ পার্ক প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৩ সালে ৭৩ প্রজাতির ১ হাজার ৫০০ বন্য প্রাণী নিয়ে এ সাফারি পার্কের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে জনবল আছে ৮৪ জন।

জানতে চাইলে বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটওয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সংবেদনশীল ও দুর্লভ বন্য প্রাণীর ডিএনএ প্রোফাইলিং করা ও মাইক্রোচিপ বসানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এ কাজ করবে বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। তাদের ফরেনসিক ল্যাব থেকে এটি করা হবে।’

বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশের দুটি সাফারি পার্কের বন্য প্রাণীর দেহে মাইক্রোচিপ বসানো ও ডিএনএ প্রোফাইলিং করার জন্য আমরা একটা প্রস্তাব পেয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, কোন কোন বন্য প্রাণীর মাইক্রোচিপ ও ডিএনএ প্রোফাইলিং দরকার, সেটা আগে সুনির্দিষ্ট করে কাজ শুরু করা হবে। মাইক্রোচিপ কিছু বন বিভাগের হাতে আছে। বাকিগুলো সংগ্রহ করে কাজ শুরু হবে। অন্যদিকে ফরেনসিক ল্যাবে কিছু রিএজেন্টের (ডিএনএ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত একধরনের রাসায়নিক) ঘাটতি আছে। এক মাসের মধ্যে সেগুলো চলে আসবে।

কেন বসানো হবে মাইক্রোচিপ

২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর গাজীপুর সাফারি পার্কের সাফারি কিংডম এলাকা থেকে গ্রিন উইং ম্যাকাও নামের দুটি পাখি চুরি হয়। এ ঘটনায় একটি পাখি উদ্ধার ও একজনকে আটক করা হলেও চুরির রহস্য উদ্‌ঘাটন করা যায়নি। এরপর ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি একটি নীলগাই হারিয়ে যায় পার্ক থেকে। সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালে মার্চে ঘটে সাফারি পার্কের সবচেয়ে দুর্লভ প্রাণী মাদাগাস্কারের লেমুর চুরির ঘটনা। পার্ক থেকে তিনটি রিং-টেইলড লেমুর পাচার হয়ে যায়। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষে সিআইডি জানায়, এগুলো সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পাচার হয়ে গেছে।

বারবার চুরির ঘটনা থামাতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান বন্য প্রাণীর নিরাপত্তার স্বার্থে মাইক্রোচিপ বসাতে চিঠি দেন বন অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে। সেখান থেকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শারমীন আক্তার একমত পোষণ করে চিঠি দেন বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষককে।

চিঠিতে বলা হয়, পার্কের বন্য প্রাণী পাচার বা চুরি হয়ে গেলে মাইক্রোচিপ থাকলে সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এরপর এক বছর পর মাইক্রোচিপের সঙ্গে ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের উদ্যোগ নিচ্ছে বন অধিদপ্তর।

জানতে চাইলে সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গাজীপুর সাফারি পার্কের আয়তন সাড়ে তিন হাজার একরের ওপর। বিশাল এ পার্কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বন্য প্রাণীগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে মাইক্রোচিপ ও ডিএনএ প্রোফাইলিং করা দরকার। এ ছাড়া বন্য প্রাণীর স্বাস্থ্য সম্পর্কেও উপাত্ত পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সাফারি পার্কে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন বিশিষ্ট বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ রেজা খান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এটা ভালো উদ্যোগ। বিশ্বব্যাপী সাফারি পার্কগুলোতে এ চর্চা আছে। সাফারি পার্কে আরও নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা আছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, খাঁচাগুলো অস্বাস্থ্যকর। বন্য প্রাণীগুলো এ ধরনের আবদ্ধ অবস্থায় অস্বস্তি বোধ করে। বিষয়গুলো বোঝার মতো সাফারি পার্কে জ্ঞানসম্পন্ন লোকবল নেই। ৫০ দশকের পুরোনো পদ্ধতিতে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা চলছে। সেখানে পরিবর্তন আনতে হবে।

Facebook Comments Box
১ম লাইন রঙ
২য় লাইন রঙ
ফন্ট সাইজ (65px)

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকার ৩২ রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে চলবে বাস

১

পুরান ঢাকার আগুন ১২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

২

বিশ্ব ব্যর্থতা দিবস আজ

৩

আন্তর্জাতিক শ্রবণ স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব ও গবেষণাপত্র উপস্থাপন

৪

ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধান মন্ত্রী

৫

প্রবাসী‌দের জন্য বি‌শেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে সরকার

৬

কলমাকান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ২২ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

৭

৪ সপ্তাহ ধরে নেত্রকোনায় নেই জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, ভোগান্তি

৮

ময়মনসিংহে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন, বাবাকে জরিমানা

৯

ময়মনসিংহে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ কৃষকদল নেতার

১০

শেরপুরে নিখোঁজের একদিন পর স্কুলছাত্রকে অক্ষত উদ্ধার

১১

ছাত্রীকে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ, ধর্মীয় শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

১২

সাড়ে ৬ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ইংরেজি শিক্ষক মাত্র দুজন, ভরসা কোচিং

১৩

পূর্বধলায় দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

১৪

মদনে টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে পেটানোর অভিযোগ

১৫

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কটিয়াদীর কামরুলের মৃত্যু

১৬

কিশোরগঞ্জের জলমহলে অভিযান, বন্দুক-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪

১৭

হালুয়াঘাট সীমান্তে বিজিবির গুলিতে যুবক নিহত

১৮

সীমান্ত থেকে নেশাজাতীয় সিরাপ এনে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতেন তারা

১৯

ফুলবাড়িয়ার বিল্লাল হোসেনের মৃত্যু

২০
শিরোনামঃ
❮ঢাকার ৩২ রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে চলবে বাস❮পুরান ঢাকার আগুন ১২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে❮বিশ্ব ব্যর্থতা দিবস আজ❮আন্তর্জাতিক শ্রবণ স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব ও গবেষণাপত্র উপস্থাপন❮ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধান মন্ত্রী❮প্রবাসী‌দের জন্য বি‌শেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে সরকার❮কলমাকান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ২২ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ❮৪ সপ্তাহ ধরে নেত্রকোনায় নেই জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, ভোগান্তি❮ময়মনসিংহে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন, বাবাকে জরিমানা❮ময়মনসিংহে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ কৃষকদল নেতার