সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদকসেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব ও তীব্রতা বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী নাজমুল ঠাকুরের বহিষ্কারাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নাজমুল ঠাকুরের মাদকসেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি সংগঠনের নজরে আসার পর তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ভিডিওটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করেছেন এবং ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন বলে জানিয়েছেন। তার দাবি, ভিডিওটি মেটাডাটা ও ফ্রেম-বাই-ফ্রেম বিশ্লেষণের জন্য বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নাজমুল ঠাকুর আরও দাবি করেছেন, ইটনার কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করায় একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিও সেই ষড়যন্ত্রের অংশ। ভিডিও বিশ্লেষণের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মন্তব্য করুন