কিশোরগঞ্জের ইটনায় হত্যা মামলার আসামিরা দীর্ঘদিনেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা নতুন করে আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই মামলার আসামিদের হামলায় গুরুতর আহত লুৎফুর রহমান রোকন নামে এক যুবক গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহত রোকন (৩২) ইটনার রায়টুটি ইউনিয়নের পাতারকান্দি গ্রামের মকসুদ আলীর ছেলে।
প্রায় চার মাস আগে রোকনের ভগ্নিপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল মিয়াকে (৪২) হত্যা করা হয়। উজ্জ্বলের ভাগনে মোশাররফ হোসেনের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের রফিক মিয়ার নেতৃত্বে উজ্জ্বলকে হত্যা করা হয়। তখন ইটনা থানা মামলা না নেওয়ায় মোশাররফ কিশোরগঞ্জের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রফিক ও তাঁর ভাতিজা শিবেনসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে থানা মামলাটি নথিভুক্ত করে। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি।
অভিযোগ রয়েছে, হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এর জেরে আসামিরা সম্প্রতি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে উজ্জ্বলের স্ত্রীর দুই ভাই রোকন মিয়া ও খোকন মিয়া এবং উজ্জ্বলের চাচাতো ভাই রবিউল আউয়ালের ওপর হামলা করে। গুরুতর অবস্থায় রোকনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং খোকনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খোকনের বাঁ পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে বাদ দিতে হয়েছে। অন্যদিকে রবিউল আউয়াল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে রোকন মারা যান।
মোশাররফ জানান, আসামিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। রোকনের মৃত্যুর খবর পেয়ে আসামিপক্ষ আবারও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়ির আশপাশে জড়ো হয়। যার ফলে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের উপস্থিতিতে আসামিরা সটকে পড়ে।
এ বিষয়ে ইটনা থানার ওসি হাবিবুল্লাহ খান বলেন, নিহত উজ্জ্বলের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ময়নাতদন্ত করা হলেও প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে এটি হত্যাকাণ্ড কিনা– তা নিশ্চিত হতে না পারায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় ছয়টি মামলা রয়েছে। রোকনের মৃত্যুতে এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে পার্শ্ববর্তী বাদলা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
মন্তব্য করুন