নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এদিকে কলেজটিতে অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মিছিল চলছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত তিনটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি আগুন দিয়ে পালিয়ে যান বলে কলেজের এক নিরাপত্তাকর্মী জানিয়েছেন।
এর মধ্যে উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক রতনের অপসারণ ও বিচার এবং নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কলেজে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
কলেজের নিরাপত্তাকর্মী মাফিজ উদ্দিন (৫৫) বলেন, রাত তিনটার দিকে তিনি দেখতে পান, হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় পেট্রোল ঢেলে আগুন দিচ্ছেন। এসময় আমি এগিয়ে গেলে তারা দ্রুত পালিয়ে যান। পরে পানি দিয়ে আগুন নেভায়। এতে দরজার কিছু অংশ কালচে হয়ে যায়। ঘটনাস্থলের সামনে একটি পেট্রোলের বোতলও পড়ে ছিল।
কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্র জানায়, কলেজের সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় আগুন দেওয়ার ঘটনার কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে তাও জানা যায়নি।
পূর্বধলা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে গত ৩০ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলী অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজে যোগ দেন। তবে যোগদানের পরদিনই তার বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত আদেশ বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে ১ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রশাসনিক কারণে গত ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক (রসায়ন) মোহাম্মদ আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি ও পদায়নের আদেশের সংযুক্ত অংশ বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। ওই আদেশের ভিত্তিতে ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) যোগ দেন। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর বেলা আড়াইটার দিকে পূর্বধলা সরকারি কলেজে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একদিন পর তার পদায়ন বাতিল হওয়ায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজ ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের পর থেকে উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক রতন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন