Tawfik
৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

শেরপুর পৌরসভায় ২ পরিবারের ১৮ জন চাকরিতে, নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

শেরপুর পৌরসভায় দুই পরিবারের ১৮ সদস্য বিভিন্ন পদে চাকরি করছেন। তাদের কেউ স্থায়ী, কেউ চুক্তিভিত্তিক আবার কেউ মাস্টাররোলে কর্মরত। এর মধ্যে পৌরসভার সহকারী কর আদায়কারী আব্দুল লতিফের পরিবারের ১২ জন এবং বাজার পরিদর্শক রফিকুজ্জামান ঝন্টুর পরিবারের ছয় সদস্য পৌরসভায় কর্মরত রয়েছেন বলে পৌরসভার তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই দুই কর্মকর্তার প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা। তাদের স্বজনদের অনেকে বিভিন্ন সময়ে পৌরসভায় চাকরি পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি কিংবা পৌরসভা নিয়োগ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এমন অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল লতিফ ও রফিকুজ্জামান ঝন্টু।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, আব্দুল লতিফ ১৯৭৩ সালে প্রথম শেরপুর পৌরসভায় যোগ দেন। ২০১৪ সালে অবসরে যাওয়ার পর একই বছর তৎকালীন মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন।

পৌরসভার দেওয়া তথ্যমতে, আব্দুল লতিফের বড় ছেলে আমিনুল ইসলাম ১৯৯৭ সালে পাম্পচালক হিসেবে যোগ দেন। ছোট ছেলে রাশেদুল ইসলাম ২০১২ সালে সুপারভাইজার পদে যোগ দেন। রাশেদুলের স্ত্রী শরীফা বেগম ২০১৫ সালে উদ্যোক্তা হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান।

আমিনুল ইসলামের শ্যালক মো. মোবারক হোসেন ২০০৭ সালে মালী হিসেবে পৌরসভায় যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মালী পদের পরিবর্তে পিয়নের কাজ করেন এবং তার পরিবর্তে অন্য একজনকে মাস্টাররোলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, আব্দুল লতিফ ১৯৭৩ সালে প্রথম শেরপুর পৌরসভায় যোগ দেন। ২০১৪ সালে অবসরে যাওয়ার পর একই বছর তৎকালীন মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন।

পৌরসভার দেওয়া তথ্যমতে, আব্দুল লতিফের বড় ছেলে আমিনুল ইসলাম ১৯৯৭ সালে পাম্পচালক হিসেবে যোগ দেন। ছোট ছেলে রাশেদুল ইসলাম ২০১২ সালে সুপারভাইজার পদে যোগ দেন। রাশেদুলের স্ত্রী শরীফা বেগম ২০১৫ সালে উদ্যোক্তা হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান।

আমিনুল ইসলামের শ্যালক মো. মোবারক হোসেন ২০০৭ সালে মালী হিসেবে পৌরসভায় যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মালী পদের পরিবর্তে পিয়নের কাজ করেন এবং তার পরিবর্তে অন্য একজনকে মাস্টাররোলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই দুই কর্মকর্তার প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা। তাদের স্বজনদের অনেকে বিভিন্ন সময়ে পৌরসভায় চাকরি পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি কিংবা পৌরসভা নিয়োগ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এমন অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল লতিফ ও রফিকুজ্জামান ঝন্টু।

যেভাবে পৌরসভায় আব্দুল লতিফের পরিবারের সদস্যরা

আব্দুল লতিফের ভাগনে আব্দুল কাদের কাদু ২০১৫ সালে বিদ্যুৎ হেলপার পদে যোগ দেন। তার ভায়রা ভাই আবুল বাশার ১৯৯৭ সালে মেশিন অপারেটর পদে যোগ দিলেও বর্তমানে সার্ভেয়ার হিসেবে কাজ করছেন বলে পৌরসভার তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

আবুল বাশারের ছেলে নাইমুল ইসলাম বাবু ২০২৬ সালে মাস্টাররোলে যোগ দেন। বাশারের ছোট ভাই তানভীর আহাম্মেদ ২০১৩ সালে এমএলএস পদে যোগ দেন। তার জামাতা মো. শফিকুল ইসলাম ২০১৪ সালে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে যোগ দেন।

আব্দুল লতিফ ও আবুল বাশারের ভাগনে রুবেল মিয়া ২০১৩ সালে পিয়ন হিসেবে যোগ দেন। লতিফের আরেক ভায়রা ভাই আইয়ুব আলী ১৯৯৫ সালে সহকারী কর আদায়কারী পদে যোগ দেন।

ঝন্টুর পরিবারের স্বজনরাও পৌরসভায়

রফিকুজ্জামান ঝন্টু ১৯৯৫ সালে বাজার পরিদর্শক হিসেবে শেরপুর পৌরসভায় যোগ দেন। একপর্যায়ে তিনি টানা ১৫ বছর পৌর কর্মচারী সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ঝন্টুর দায়িত্ব পালনকালে তার মাধ্যমে অন্তত ১৫ জন কর্মচারী আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পৌরসভার বিভিন্ন পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

ঝন্টুর স্বজনদের মধ্যে তার মামাতো ভাইয়ের তিন ছেলে পৌরসভায় কর্মরত। তারা হলেন—পিয়ন মো. সোহেল রানা, নৈশপ্রহরী আবুল হোসেন ও পাম্পচালক জুহুরুল ইসলাম রুবেল। তারা যথাক্রমে ২০১০ ও ২০১৪ সালে পৌরসভায় যোগ দেন।

এ ছাড়া ঝন্টুর ভাগনে জামাই মো. আরফান আলী ২০১৪ সালে পাইপলাইন মেকানিক হিসেবে যোগ দেন। তার ভাতিজা সাজিবর রহমান সাজু ২০১৩ সালে কার্য সহকারী হিসেবে যোগ দেন।

তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন কিংবা নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রফিকুজ্জামান ঝন্টু।

নিয়োগবিধি মানা হয়নি, অভিযোগ কর্মকর্তাদের

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, দুই পরিবারের ১৮ সদস্যের অধিকাংশের নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি কিংবা পৌরসভা নিয়োগ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

তাদের দাবি, দুই পরিবারের সদস্যদের একটি অংশ পৌরসভার বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। তাদের অভিযোগ, দুই পরিবারের ১৮ সদস্য প্রতি মাসে প্রায় চার লাখ টাকা বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।

পৌরসভার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দুই পরিবারের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ‘সিন্ডিকেট’ পুরো পৌরসভার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল লতিফ বলেন, “তারা আমার আত্মীয় হলেও আমাকে ব্যবহার করে চাকরিতে আসেননি। যার যার ক্ষমতা বলেই তারা চাকরি করছেন।”

রফিকুজ্জামান ঝন্টু বলেন, “সাবেক মেয়র রুমান ও আমার বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল। কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”

নাগরিক সেবা নিয়েও ক্ষোভ

পৌরসভায় স্বজনদের চাকরি ও নিয়োগ নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি নাগরিক সেবার মান নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

সমাজকর্মী রেজাউল করিম বলেন, পৌরসভার নাগরিকরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, পৌরসভার সামনের সড়কসহ তিনানি বাজার থেকে খোয়ারপাড়, খোয়ারপাড় থেকে কান্দাপাড়া, খোয়ারপাড় শাপলা চত্বর থেকে শেরী ব্রিজ, খড়মপুর থেকে মাধবপুর, শিংপাড়া, মধ্যশেরী ও বাগরাকসার ভেতরের সড়কগুলোতে সড়কবাতি নেই। যেগুলো আছে, সেগুলোর কিছু আবার রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা জ্বলে।

রেজাউল করিমের অভিযোগ, বিসিক শিল্পনগরী ও জেলখানার সামনেও সড়কবাতি নেই। পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নাজুক। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে পুরো পৌরসভায় এখনো পানির লাইন নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

তার দাবি, এসব বিষয়ে বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ প্রতি মাসে দুই পরিবারের সদস্যদের পেছনে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রেজাউল করিম বলেন, দ্রুত পৌরসভা থেকে এই ‘সিন্ডিকেট’ ভেঙে একটি জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌরসভাকে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

পৌরসভায় দুই পরিবারের ১৮ সদস্য চাকরি করার বিষয়টি জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা বলেন, বিষয়টি তিনি প্রথমবার শুনেছেন। তিনি বলেন, “দুই পরিবারের এতজন কর্মচারী পৌরসভায় চাকরি করছেন—এমন তথ্য আমি প্রথমবার শুনলাম। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নাগরিকদের সড়কবাতিসহ অন্যান্য সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, পৌরসভার নাগরিকদের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির শেরপুর পৌরসভায় বর্তমানে নিয়মিত ৭৭ জন এবং চুক্তিভিত্তিক ও মাস্টাররোলে ২৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।

Facebook Comments Box
১ম লাইন রঙ
২য় লাইন রঙ
ফন্ট সাইজ (65px)

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে ফের চালু জারিয়ার লোকাল ট্রেন, স্বস্তি ফিরল হাজারো যাত্রীর

১

বকশীগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় কসমেটিকস পণ্য জব্দ

২

শিবালয়ে একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি জিন্নাহ

৩

বিশ্ব বসতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান

৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের বহুতল ভবন থেকে পড়ে শিক্ষার্থী আহত

৫

২৫০ শয্যার নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক আছেন ৩০ জন

৬

ঢাকার বায়ু আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’, আশপাশের অবস্থা আরও নাজুক

৭

শেরপুরে নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

৮

শেরপুর পৌরসভায় ২ পরিবারের ১৮ জন চাকরিতে, নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

৯

‘হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি’ জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ারের

১০

শেরপুরে ১৭১ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর

১১

শেরপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

১২

এক শতাব্দী ধরে পাঠকের ঠিকানা শেরপুরের গণগ্রন্থাগার

১৩

ভৈরবে যুবদল নেতার নাম ভাঙিয়ে ৩ দোকানে তালা দিলো দুর্বৃত্তরা

১৪

আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে কটিয়াদীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

১৫

‘জামায়াত থেকে সাবধান’ বলেছিলেন, পরে সেই জামায়াতেই আখতারুজ্জামান

১৬

নেত্রকোণায় ভারতীয় পন্যসহ গ্রেপ্তার ১

১৭

নেত্রকোণা পূর্বধলা সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে বিক্ষোভ

১৮

হেলমেট পরে এসে অধ্যক্ষের কক্ষে আগুন, কলেজে পাল্টাপাল্টি মিছিল

১৯

বাড়ি লিখে নিয়েছে মেয়ে, এখন ভাড়ার টাকাও পান না বৃদ্ধা মা

২০
শিরোনামঃ
❮ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে ফের চালু জারিয়ার লোকাল ট্রেন, স্বস্তি ফিরল হাজারো যাত্রীর❮বকশীগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় কসমেটিকস পণ্য জব্দ❮শিবালয়ে একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি জিন্নাহ❮বিশ্ব বসতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান❮ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের বহুতল ভবন থেকে পড়ে শিক্ষার্থী আহত❮২৫০ শয্যার নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক আছেন ৩০ জন❮ঢাকার বায়ু আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’, আশপাশের অবস্থা আরও নাজুক❮শেরপুরে নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার❮শেরপুর পৌরসভায় ২ পরিবারের ১৮ জন চাকরিতে, নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন❮‘হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি’ জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ারের