ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় সাতটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন একদল আবেদনকারী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।
এ দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গামারীতলা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস শহীদ, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ইয়াসিন আরাফাত ও আসলাম মিয়া আরিফ বক্তব্য দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সার ডিলার নিয়োগে যোগ্যতা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও স্বচ্ছতার বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। তাঁদের দাবি, সাতটি ইউনিয়নে নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের নির্বাচিত করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে সার ও কৃষিপণ্যের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রকৃত ব্যবসায়ী, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এবং বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের কেউ কেউ বঞ্চিত হয়েছেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বহিষ্কৃত বিএনপির নেতা ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সার কৃষি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। তাই এ খাতে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও প্রকৃত ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-ধোবাউড়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা, অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বাতিল, যোগ্য ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ এবং অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ।
বক্তারা বলেন, আমরা কোনো অনিয়মতান্ত্রিক নিয়োগ চাই না। কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে যাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নিয়োগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে তা বাতিল করতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বিধি মোতাবেক যাচাই-বাছাই করে তিনজনের নাম জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা জেলা কমিটি পাঠিয়েছে।
মন্তব্য করুন