সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মো. কামরুল ইসলাম (২৬) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে দেশটির রাজধানী রিয়াদের বানবান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত কামরুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের বেতাল গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রায় চার বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান কামরুল। তিনি রিয়াদের বানবান এলাকার আল মদিনা কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সোমবার সকালে নাইট ডিউটি শেষে রুমে ফেরার পথে একটি পানিবাহী ট্যাঙ্কারের সঙ্গে লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় লরিতে থাকা কামরুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তার মৃত্যুর খবর মোবাইল ফোনে বাড়িতে জানান একই এলাকার সৌদিপ্রবাসী বিল্লাল মিয়া।
ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা জয়নাল আবেদীন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। কোনোদিন ভাবিনি এমনভাবে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনতে হবে। এক বছর আগে ছুটি নিয়ে বাড়িতে এলে কামরুলকে বিয়ে করিয়েছিলাম। এখন ছেলের বউকে কী সান্ত্বনা দেব? বাড়িতে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করছিল সে, এখন সেই ঘরে কে থাকবে?
কামরুলের স্ত্রী খাদিজা আক্তার আঁখি আহাজারি করে বলেন, আল্লাহ আমাকে কী কঠিন পরীক্ষায় ফেললেন! ২০২৫ সালে তিন মাসের ছুটিতে বাড়িতে এসে আমাকে বিয়ে করেছেন তিনি। আজ সকালে তার মৃত্যুর খবর শুনতে হলো। আমি তার মুখখানা শেষবারের মতো দেখতে চাই। আমার স্বামীর লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।
মসূয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, কামরুলের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছার পর থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তার স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। কামরুলের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
মন্তব্য করুন