নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির অভিযোগে দায়ের করা এজাহারে রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুলসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তথ্য সংগ্রহ, নথি যাচাই ও সার্ভারে তথ্য আপলোডের প্রক্রিয়ায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা এখনো তদন্তসাপেক্ষ। অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।
এজাহারে নাম থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে চাকরিচ্যুত তিনজন, রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল, কথিত নূর হালিমার পরিচয়দানকারী পিতা ওমর আলী এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মঞ্জুরুল মিয়া। তবে এজাহারে নাম থাকা বা গ্রেপ্তার হওয়ার অর্থ অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর দৈনিক সমকালে ‘কলমাকান্দায় তদন্তাধীন কয়েকটি এনআইডির নথিপত্র গায়েবের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে তদন্তাধীন কয়েকটি এনআইডির সংশ্লিষ্ট নথি খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এর পর থেকে উপজেলা নির্বাচন অফিসের এনআইডি নিবন্ধন ও নথি সংরক্ষণব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। সর্বশেষ থানায় অভিযোগ দায়ের ও দুজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
নির্বাচন অফিস-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, গত ১১ আগস্ট রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসের আইডি ব্যবহার করে নূর হালিমা ও মুজিবুর রহমানের এনআইডি তৈরির কাগজপত্র সার্ভারে আপলোড করা হয়। ওই রাতে শুধু এই দুজনের তথ্যই আপলোড হয়েছিল বলে সূত্রটি জানিয়েছে। মুজিবুর রহমানের ফাইল নম্বর ১২১১৫০৭৯১। তাঁর ঠিকানা হিসেবে উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তথ্য আপলোডের সময় ব্যবহৃত আইডিটি কার নিয়ন্ত্রণে ছিল, কারা ওই আইডিতে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন এবং আবেদনকারীদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের দায়িত্বে কারা ছিলেন—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। সার্ভার লগ, ব্যবহারকারীর প্রবেশসংক্রান্ত রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করে তথ্য আপলোডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব কি না, তা তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমানের দায়ের করা অভিযোগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মঞ্জুরুল মিয়ার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে তাঁর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের পাশাপাশি অফিসের সিসিটিভি নষ্ট থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের এসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োজিত একজন কর্মী কীভাবে এনআইডি নিবন্ধন ও তথ্য আপলোডের মতো কারিগরি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি নিজে তথ্য আপলোড করেছিলেন, নাকি অন্য কেউ তাঁর পরিচয় বা অফিসের আইডি ব্যবহার করেছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে সার্ভার লগ, দায়িত্ব বণ্টনের নথি, অফিসে প্রবেশের রেকর্ড এবং সিসিটিভি-সংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করা জরুরি।
মন্তব্য করুন