কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রার গণনা এবং ওজন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ছয় বছর সাত মাস পর ট্রেজারিতে সিলগালা করে রাখা এসব অলঙ্কার ও মুদ্রার হিসাব করা হচ্ছে। সোমবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত স্বর্ণালঙ্কার বাছাই ও ওজন শেষে পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৪ ভরি সোনা। এ ছাড়া রুপার অলঙ্কার পাওয়া গেছে ১ হাজার ৮৮ ভরি। তবে তখনও বিদেশি মুদ্রা গণনার কাজ চলছিল।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ সর্বশেষ এসব অলঙ্কারের হিসাব করা হয়েছিল। তখন পাওয়া গিয়েছিল ৪১৫ ভরি স্বর্ণ ও ১৮৪ ভরি রুপা। নিলামে এসব অলঙ্কার বিক্রি করে পাওয়া যায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকা। আর বিদেশি মুদ্রা বিনিময় করে পাওয়া গিয়েছিল ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৫১ টাকা।
জেলা প্রশাসক জানান, এরপর থেকে ১৮ বার দানবাক্স খোলা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৭ জুন ১৩টি দানবাক্সের ৪৩ বস্তা টাকা গণনা করে পাওয়া যায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। সোমবার পর্যন্ত রূপালী ব্যাংকে মসজিদের হিসাবে নগদ জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা।
তিনি আরও জানান, এবারের বিদেশি মুদ্রা ও অলঙ্কারও কিছুদিনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিলামে বিক্রি করা হবে। বিক্রির অর্থ মসজিদের হিসাবে রূপালী ব্যাংকে জমা রাখা হবে। বিদেশি মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী টাকায় রূপান্তর করে বিক্রি করা হবে।
অলঙ্কার ও মুদ্রা গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদা সাইফুল্লাহ সোহেল খান, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরশাদুল আহমেদ, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ রজমান আলী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মারুফ এবং রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারেসি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে রূপালী ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ী নেতারা মুদ্রা গণনা, অলঙ্কার বাছাই ও ওজনের কাজে অংশ নেন। অলঙ্কারের মধ্যে হার, বালা, গলার চেইন, নাকফুলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী ছিল। বিদেশি মুদ্রার মধ্যে পাওয়া গেছে ডলার, চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। মুদ্রাগুলো দেশ অনুযায়ী আলাদা করে বান্ডেল করা হচ্ছে।
প্রতি দফায় দানবাক্সে পাওয়া বিদেশি মুদ্রা ও মূল্যবান অলঙ্কার সুরক্ষিত পাত্রে সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে জমা রাখা হয়। দীর্ঘ ছয় বছর সাত মাস পর এবার সেগুলো প্রকাশ্যে গণনা ও ওজনের জন্য খোলা হলো।
মন্তব্য করুন