নেত্রকোনার বারহাট্টায় ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় এক ব্যক্তিকে কারাভোগ করানোর ঘটনায় বাদী এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত নারী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি নুরুল কবির গণমাধ্যমকে রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৯ এপ্রিল প্রতিবেশী কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ওই নারী। মামলায় তিনি নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে দাবি করেন। পরে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি প্রায় দুই মাস কারাগারে ছিলেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ওই নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ২০০৯ সালের ২৩ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে শিশুটির পিতৃত্ব নিয়ে ওই নারীর দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালত কামাল উদ্দিনকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস দেন।
এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ওই নারীর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন