গ্রামীণ শতবর্ষী সড়কে দেওয়াল নির্মাণ করায় লোকজনের চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকটা ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছেন প্রায় ২ শতাধিক লোকজন। ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না। কৃষক তার ঘরে রাখা ফসল হাটে নিতে পারছেন না। আর এর প্রতিবাদ করায় গ্রামবাসীর ওপর আক্রমণ, মারমুখী আচরণ ও মামলা-হামলার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রবিউল ইসলাম মুক্তার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের কাউনের চর গ্রামে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চলাচলের একটি পুরোনো সড়কে দেওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। এতে পেছনে বাস করা দুইশো থেকে আড়াইশো মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। আর এ ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, যেকোনো সময় সংঘাতের শঙ্কাও রয়েছে।
৮৫ বছর বয়সি মতিউর রহমান দুদু বলেন, আমার বাপ-দাদারা এই সড়ক ব্যবহার করেছেন। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই সড়কে চলাচল করা হয়। কিন্তু কিছুদিন আগে মুক্তা মিয়া কাউকে কিছু না জানিয়ে সড়কে ইট দিয়ে দেওয়াল নির্মাণ শুরু করে। এতে করে পেছনে থাকা দুই-আড়াইশো মানুষ একেবারে আটকে পড়েছে। এটা আমাদের এতগুলো মানুষের ওপর জুলুম করা হচ্ছে।
৮২ বছর বয়সি খোরশেদ আলম বলেন, এই সড়কটি বহু পুরোনো। আমার বাপ-দাদারা এই সড়ক দিয়েই চলাচল করেছে। মুক্তা মিয়ার বাপ দাদারা কখনো কিছুই বলেনি। হঠাৎ করে সে সড়ক আটকে ভবন বানাচ্ছে। এতে আমরা পড়েছি বিপদে। মুক্তাকে কেউ কিছু বলতে গেলে ঝগড়া বিবাদ করে। তাই সরকারের কাছে দাবি, এই সড়কটি উদ্ধার করা হোক।

স্থানীয় ইউনাইটেড গ্ল্যামার স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাফি, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী উসমান আলী ও তাওরাত হোসেন বলেন, আমরা এই দেওয়ালের কারণে স্কুলে যেতে পারছি না। আমাদের স্কুলে যাওয়া অনেকটাই বন্ধের পথে।
স্থানীয় সমাজসেবক নবিকুল ইসলাম বলেন, জায়গার মালিক মুক্তার আলী হলেও এখান দিয়ে ব্রিটিশ আমল থেকেই লোকজন যাতায়াত করে আসছে। বেশ কয়েকজনের জমির ওপর দিয়ে শতবর্ষী এই সড়কটি। কিন্তু মুক্তার আলী হুট করে দেওয়াল নির্মাণ করায় তিনশোর বেশি মানুষ আটকা পড়ে গেছে। এ ব্যাপারে মুক্তার আলীকে বলতে গেলে সে মামলা-হামলার হুমকি দেয়। তাই আমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউএনও বরাবর সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দিয়েছি।
অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম মুক্তা মুঠোফোনে বলেন, আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা। আমার নিজস্ব জমিতে আমি দেওয়াল তুলতেছি। এতে কার অনুমতি নিতে হবে? কিন্তু দুই শতাধিক লোকজনের পথ আটকিয়ে এমন কাজ যুক্তিযুক্ত কি না জানতে চাইলে উত্তর না দিয়েই ফোনের লাইন কেটে দেন তিনি।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, সড়ক আটকানোর একটি অভিযোগ পেয়েছি। দুই শতাধিক নাগরিকের চলার পথ এভাবে বন্ধ করার এখতিয়ার নেই। এতগুলো মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে থাকবে। দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন