ডেস্ক রির্পোট : প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বৃদ্ধা নুর জাহান বেগম (৭০) হত্যা মামলার পলাতক এক অভিযুক্তকে নেত্রকোনার দুর্গাপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪-এর সিপিএসসি, ময়মনসিংহ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. খাদিমুল হক (৪৫)। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে দুর্গাপুর থানার বিজয়পুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১৪ জানায়, জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে নুর জাহান বেগমের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ চলে আসছিল। একই বংশের এবং পাশাপাশি বসবাসকারী হওয়ায় দুই পরিবারের মধ্যে এ বিরোধ আরও তীব্র হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে তারাকান্দা থানার খিচা থেকে সানুড়া যাওয়ার পথে বাদীর দুই ভাইকে আসামিরা গতিরোধ করেন। এ সময় তাদের মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর একই দিন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে খাদিমুল হকসহ অন্য আসামিরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তারাকান্দার নগুয়া গ্রামে বাদীর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে বাদীর বৃদ্ধা মা নুর জাহান বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, এ সময় বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়। একই সঙ্গে নগদ দুই লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
পরে গুরুতর আহত নুর জাহান বেগমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ জুলাই দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে ১৬ জুলাই তারাকান্দা থানায় হত্যা মামলা করেন।
র্যাব-১৪ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সিপিএসসি, র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় খাদিমুল হকের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
এরপর বুধবার রাতে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার বিজয়পুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার খাদিমুল হকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে তারাকান্দা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন